ওঙ্কার ডেস্ক: চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে পুরস্কার নিয়েছিলেন কামারহাটির ২৯ নম্বর নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিশেষ ভাবে সক্ষম যুবক উদয় কুমার। জল-স্থল-আকাশ অভিযানে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখায় এই সম্মান মিলেছিল তাঁর। কিন্তু দেশের সাংবিধানিক প্রধানের হাত থেকে পুরস্কার পেলেও মেলেনি একটা সরকারি চাকরি। পরিবারের খরচ জোগাতে বর্তমানে হিমশিম খাচ্ছেন ওই কৃতী।
১০ বছর আগে কারখানা থেকে কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গিয়েছিলেন উদয়। সেই ঘটনার পর জীবনে নেমে আসে প্রতিকূলতা। চির দিনের জন্য নিজের বাঁ পা হারান উদয়। প্রথমে ভেঙে পড়েছিলেন। কিন্তু আবার ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতিজ্ঞা করেন ওই যুবক। এক পায়েই শুরু হয় উদয়ের নতুন লড়াই। গত পাঁচ বছরে দেশের ১৭টি রাজ্যে ম্যারাথনে দৌড়েছেন তিনি এক পা নিয়ে। সংখ্যার হিসেবে যা প্রায় ৯০টি। শুধু ম্যারাথন নয়, পর্বতারোহণও করেন তিনি। সান্দাকফুতে ১২,৫০০ ফুট শৃঙ্গজয় করেন। কাঞ্চনজঙ্ঘা রেঞ্জের ১৬,৫০০ ফুট শৃঙ্গবিজয়ও করেন উদয়। স্কুবা ডাইভিং করার পাশাপাশি ১৩ হাজার ফুট স্কাইডাইভও করেছিলেন তিনি। জীবনে বাধা সত্ত্বেও এমন লড়াইয়ের জন্য রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁকে সম্মানিত করেন। কিন্তু বর্তমানে উদয়ের আক্ষেপ রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেলেও রাজ্য সরকার তাঁকে একটি সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়নি।
উদয়ের আক্ষেপ রাষ্ট্রপতি ভবনের যে অনুষ্ঠানে তিনি পুরস্কার পেয়েছিলেন, সেই অনুষ্ঠানেই সম্মান জানানো হয়েছিল অলিম্পিকে পদকজয়ী মনু ভাকের, প্যারালিম্পিক্সে সোনা জয়ী জ্যাভেলিন থ্রোয়ার নভদীপ সিংহদের। তাঁরা সকলেই সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সরকারি সাহায্য পেয়েছেন। যদিও উদয় পাননি বঙ্গে কোনও সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র।
