ওঙ্কার ডেস্ক: মাথাভাঙার ৭০ বছর বয়সি প্রবীণ নাগরিক নিশিকান্ত দাসের হাতে পৌঁছল এনআরসি-র নোটিস। অভিযোগ, তিনি ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশ করেছেন। এমন বিস্ফোরক অভিযোগে তীব্র আতঙ্কে দিন কাটছে ওই বৃদ্ধ ও তাঁর পরিবারের।
নিশিকান্তবাবুর কথায়, “প্রায় ৩০ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে গিয়েছিলাম অসমের গুয়াহাটিতে। তখন পুলিশ আমাকে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করেছিল। তবে সঙ্গে থাকা পরিচয়পত্র, ভোটার কার্ড, ও নথি দেখানোর পর ছেড়ে দেয়।” তিনি জানান, “মাত্র ছ’মাস সেখানে কাজ করে ফিরে এসেছিলাম মাথাভাঙায়। তারপর থেকে এখানেই বসবাস করছি।” তাঁর দাবি, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল থেকে একটি নোটিস পাঠানো হয়, যেখানে লেখা রয়েছে তিনি বেআইনিভাবে ভারতে এসেছেন। নোটিস পাওয়ার পরপরই তিনি নিজের যাবতীয় নথি জন্ম সনদ, ১৯৬০ সালের জমির দলিল, পুরনো পরিচয়পত্র জমা দেন। তবুও ফের চাওয়া হচ্ছে বাবার নাম সহ পুরনো ভোটার তালিকা।
এই ঘটনার জেরে তীব্র উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন নিশিকান্তবাবু। একই সঙ্গে আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।তাঁদের প্রশ্ন, “যদি এত পুরনো প্রমাণপত্র থাকা সত্ত্বেও কাউকে বিদেশি সন্দেহে নোটিস দেওয়া হয়, তাহলে আর কে নিরাপদ?” উল্লেখ্য, এই প্রথম নয়। এর আগে দিনহাটার চৌধুরীহাটের উত্তম কুমার বজ্রবাসী ও ফালাকাটার অঞ্জলী শীলও এমন নোটিস পেয়েছিলেন।
এই ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, “বাংলার মানুষকে কেউ দেশছাড়া করতে পারবে না। আমরা ওদের পাশে আছি।” পাশাপাশি প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের নামে এভাবে নিরীহ নাগরিকদের হেনস্থা বরদাস্ত করা হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর দফতর সরাসরি বিষয়টির উপর নজর রাখছে বলেও প্রশাসন সূত্রে খবর। এভাবে প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও একের পর এক মানুষের নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহের খাঁড়া ঝুলিয়ে রাখায় সাধারণ মানুষের মনে ভয় আর অনিশ্চয়তা ক্রমেই বেড়ে চলেছে।
