ওঙ্কার ডেস্ক: বিদেশে থাকতেন স্বামী। অন্য পুরুষের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন মহিলা। মধ্যপ্রাচ্য থেকে স্বামী বাড়ি ফিরতে পরিকল্পনা করে মদের আসর বসান মহিলা। অভিযোগ মদ্যপ অবস্থায়, ছাদ থেকে স্বামীকে ঠেলে ফেলে দেন অভিযুক্ত মহিলা। কিন্তু তাতে বেঁচে গেলে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে দেহে টয়লেট ক্লিনার প্রয়োগ করে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেন পেশায় নার্স ওই তরুণী। ঘটনাটি ঘটেছে তেলেঙ্গানার নিজামাবাদ জেলার নিয়ালকাল গ্রামে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত যুবকের নাম প্রশান্ত, ৩৫ বছর বয়স তাঁর। গত ২৮ জুন মধ্যপ্রাচ্য থেকে দেশে ফেরেন। তাঁর স্ত্রী সন্ধ্যার সঙ্গে অনিল নামের এক যুবকের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। তদন্তকারীদের অনুমান, তিন জন মিলেই এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছিল। তদন্তে জানা গিয়েছে, সন্ধ্যা ভেঙ্কটা সাই ওরফে বান্টিকে রাজি করান প্রশান্তের সঙ্গে সময় কাটাতে এবং মদ্যপান করাতে। ২৯ জুন সেই মদ্যপানের আসর বসে। প্রশান্ত ও বান্টি বাড়ির ছাদে মদ্যপান করেন। এর পর তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। পুলিশ জানতে পেরেছে, বান্টি ও সন্ধ্যা মিলে প্রশান্তকে ছাদ থেকে ঠেলে নীচে ফেলে দেন। গুরুতর জখম হলেও তিনি প্রাণে বেঁচে যান। প্রথমে তাঁকে এক সরকারি হাসপাতালে এবং পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
পুলিশের দাবি, প্রথম পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর গত ৩০ জুন সন্ধ্যা তার নার্সিং বিদ্যা ফলিয়ে দ্বিতীয়বার মেরে ফেলার চেষ্টা করেন। তদন্তকারীরা জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রশান্তের ক্যানুলার মাধ্যমে টয়লেট ক্লিনার ও অন্যান্য বিষাক্ত পদার্থ প্রয়োগ করেন। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। ১ জুলাই প্রশান্তের মায়ের সন্দেহ হওয়ায় পুলিশের দ্বারস্থ হন তিনি। এরপরই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পুলিশি জেরায় বান্টি হামলায় নিজের যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। টাকার বিনিময়ে তাঁকে দিয়ে এই কাজ করানো হয়েছে।’ বান্টি ছাড়াও সন্ধ্যা এবং তাঁর প্রেমিক অনিলকেও পাকড়াও করেছেন তদন্তকারীরা।