ওঙ্কার ডেস্ক: ওয়াকফ (সংশোধনী) আইন, ২০২৫ কার্যকর করার পর দেশের মধ্যে প্রথমবারের মতো নতুন কাঠামোয় রাজ্য ওয়াকফ বোর্ড গঠন করল মধ্যপ্রদেশ সরকার। নতুন বোর্ডে প্রথমবার দু’জন হিন্দু সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার ১০ সদস্যের নতুন ওয়াকফ বোর্ড গঠন করেছে। সানওয়ার প্যাটেলকে ফের বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। বোর্ডে হিন্দু সদস্য হিসেবে জায়গা পেয়েছেন ইন্দোরের মনোজ মালপানি এবং গুনার রাঘোগড়ের অনিমেষ ভর্গব। পাশাপাশি নজমা হেপতুল্লা, আতিফ আকিল, ফৈজান খান, ফাতেমা চৌধুরী, শাইস্তা সুলতান ও শাবানা খান-সহ অন্যান্য সদস্যদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
রাজ্য সরকারের দাবি, ওয়াকফ (সংশোধনী) আইনে রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডে অন্তত দু’জন অ-মুসলিম সদস্য রাখার বিধান রয়েছে। সেই আইন মেনেই এই পুনর্গঠন করা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, এর ফলে ওয়াকফ সম্পত্তির পরিচালনায় আরও স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কার্যকর প্রশাসন নিশ্চিত হবে। তবে এই সিদ্ধান্তের কড়া বিরোধিতা করেছে কংগ্রেস। কংগ্রেস বিধায়ক আরিফ মাসুদের অভিযোগ, ওয়াকফ আইন সংক্রান্ত বিষয়টি এখনও সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। চূড়ান্ত রায় ঘোষণার আগেই এভাবে বোর্ড পুনর্গঠন করা উচিত হয়নি। তিনি জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হবেন। অন্যদিকে নবনিযুক্ত সদস্য অনিমেষ ভর্গব দাবি করেছেন, সংবিধান এবং সংশোধিত আইনের আওতাতেই তাঁদের নিয়োগ হয়েছে। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, প্রশাসনিক সংস্কার এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে দেখা উচিত।
ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান সানওয়ার প্যাটেলও সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। তাঁর বক্তব্য, আইনের বিধান মেনেই বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং বিষয়টিকে অযথা রাজনৈতিক রং দেওয়া হচ্ছে। এদিকে কয়েকটি মুসলিম সংগঠন ও ধর্মীয় মহলের একাংশ এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি তুলেছে। তাঁদের দাবি, ওয়াকফ বোর্ড মূলত মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও দাতব্য সম্পত্তির পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত। তাই এই ধরনের বোর্ডে অ-মুসলিম সদস্য অন্তর্ভুক্তির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। মধ্যপ্রদেশের এই সিদ্ধান্ত ওয়াকফ (সংশোধনী) আইন কার্যকর হওয়ার পর দেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিসরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।