তাণ্ডবে কার শঙ্খধ্বনি
রাজধানীতে যে ঘনঘটা চলছে তাকে তাণ্ডব বলে উল্লেখ করেছেন রাহুল। বলেছেন, এটা কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, এটা গণতন্ত্র বাঁচাতে শিব নৃত্য। সংবিধানকে ধর্ম বলে উল্লেখ করে তাকে বাঁচাতে দেশের সর্বস্তরের নাগরিককে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এমন কি, বিজেপির কেউও যদি এই ধর্মযুদ্ধে সামিল হন তাতেও কোনো আপত্তি নেই। রাহুলের এই আহ্বান কী চলতি তাণ্ডবের শঙ্খধ্বনি ! ইন্ডির সুপ্রিম কোর্ট অভিযানে যে আওয়াজ উঠল, তার স্বরগ্রাম নিয়ে মাপজোপ চলবে। কিন্তু যেটা থেকে যাবে তা হল- ভারতীয় রাজনীতিতে জন্ম নেওয়া একটা নয়া যুগ। যে ভাবে জনজাগরণ বাড়ছে তাতে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে আদৌ সুস্থির হওয়ার নয়, তার আভাস যথেষ্ট। এটাই শাসক বিজেপির কাছে অতিকায় চ্যালেঞ্জ নিঃসন্দেহে। এখন প্রশ্ন, এর পরিণতি কি ? মীমাংসা, না প্রতিরোধ। রাহুল বলেছেন, যতদিন লাগে লাগুক, গণতন্ত্র বাঁচাতে তারা বদ্ধপরিকর। জোটেরও দাবি, এই আন্দোলন থেকে তাঁরা সরছেন না। শুধু তাই নয়, একে রাজনৈতিক আন্দোলন বলে অভিহিত করতে নারাজ রাহুল। বরং একে সর্বস্তরের মানুষের লড়াই বলে দাবি করেছেন। ককরোচদের আন্দোলনকেও তিনি সমান্তরাল কর্মসূচি বলে মানছেন না। তাঁর সাফ কথা, গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইতে যাঁরাই সামিল হবেন তাঁদের পাশে থাকছেন তাঁরা। রাহুল বলছেন, এই লড়াই আদৌ রাজনৈতিক নয়। কারণ, তাঁরা রাস্তায় নয়, লড়াই করছেন দেশের মানুষের হৃদয়ের সঙ্গে। সত্যাগ্রহের ডাক দিয়ে তিনি যে পথে নেমেছিলেন, সেই পথে সেই আদর্শের নির্যাস তিনি এখন ছড়িয়ে দিতে চাইছেন। আর এখানেই একটি সুদূরপ্রসারী ধ্বনি উঠে আসে। হয়তো এই তাণ্ডবে এটাই তার শঙ্খধ্বনি।