স্ট্রোক একটি গুরুতর ও জরুরি চিকিৎসাজনিত অবস্থা, যেখানে মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় অথবা মস্তিষ্কের রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ হয়। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে স্ট্রোকের কারণে স্থায়ী পক্ষাঘাত, কথা বলার সমস্যা, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। তাই স্ট্রোকের লক্ষণ চেনা এবং দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
স্ট্রোকের প্রধান লক্ষণ কী কী?
স্ট্রোকের লক্ষণ সাধারণত হঠাৎ দেখা দেয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া বা হাসতে অসুবিধা হওয়া।
শরীরের এক পাশের হাত বা পা দুর্বল হয়ে যাওয়া কিংবা অবশ হয়ে যাওয়া।
কথা জড়িয়ে যাওয়া, কথা বলতে বা অন্যের কথা বুঝতে অসুবিধা হওয়া।
হঠাৎ এক বা দুই চোখে ঝাপসা দেখা কিংবা দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া।
হঠাৎ মাথা ঘোরা, ভারসাম্য হারানো বা হাঁটতে সমস্যা হওয়া।
কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা শুরু হওয়া।
মনে রাখবেন, এসব লক্ষণের যেকোনো একটি দেখা দিলেও স্ট্রোকের আশঙ্কা থাকতে পারে।
স্ট্রোক হলে তাৎক্ষণিক করণীয়
স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে এক মুহূর্তও দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবায় যোগাযোগ করুন। ভারতে থাকলে ১১২ নম্বরে ফোন করে অ্যাম্বুল্যান্সের সাহায্য চাইতে পারেন। রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব স্ট্রোকের চিকিৎসা দেওয়া যায়, সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা তত বাড়ে।
রোগীর লক্ষণ কখন শুরু হয়েছে, সেই সময়টি মনে রাখুন। চিকিৎসককে এই তথ্য জানানো গুরুত্বপূর্ণ। রোগীকে নিরাপদ ও আরামদায়ক অবস্থায় রাখুন এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের দিকে নজর দিন। রোগী অচেতন হলে বা স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নিলে জরুরি পরিষেবার নির্দেশ অনুসরণ করুন।
কখনোই রোগীকে নিজে থেকে অ্যাসপিরিন, রক্ত পাতলা করার ওষুধ, খাবার বা জল দেবেন না। স্ট্রোক রক্তনালি বন্ধ হওয়ার কারণে হয়েছে, নাকি রক্তক্ষরণের কারণে—তা পরীক্ষা ছাড়া বোঝা যায় না। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ দেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। রোগীর হাত-পা জোরে মালিশ করা বা ঘরোয়া চিকিৎসায় সময় নষ্ট করাও উচিত নয়।
স্ট্রোকের উপশম ও চিকিৎসা:
স্ট্রোকের ক্ষেত্রে ঘরোয়া উপায়ে তাৎক্ষণিক উপশম সম্ভব নয়। হাসপাতালে মস্তিষ্কের স্ক্যান ও অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে স্ট্রোকের ধরন নির্ণয় করে চিকিৎসা করা হয়। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দ্রুত রক্ত জমাট গলানোর ওষুধ বা রক্তের জমাট অপসারণের প্রক্রিয়া করা যেতে পারে। রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকের চিকিৎসা আলাদা।
পরবর্তী সময়ে ফিজিওথেরাপি, স্পীচ থেরাপি, পুষ্টিকর খাবার এবং চিকিৎসকের নির্দেশিত পুনর্বাসন রোগীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সাহায্য করতে পারে।
স্ট্রোক প্রতিরোধের উপায়
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান ত্যাগ করা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং পর্যাপ্ত ঘুম স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
সর্বোপরি স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। লক্ষণ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছান। সঠিক সময়ে চিকিৎসা রোগীর জীবন বাঁচাতে এবং স্থায়ী অক্ষমতার ঝুঁকি কমাতে পারে।