ওঙ্কার ডেস্কঃ বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হয়েই বঙ্গ সফরে এসেছেন নিতিন নবীন। ভোটের আগে বঙ্গ সফরে তাঁর আসার পরই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার এলাকার হোটেলে তাঁকে স্বাগত জানাতে দেখা গিয়েছিল শতাধিক কিশোর ও কিশোরীকে। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের বদলে সেখানে ভিড় করেছিল ১৮ বছরের কম কিশোর কিশোরীরা। তাদের বেশিরভাগই স্কুল পড়ুয়া।
দলীয় কর্মীদের বদলে কেন স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েরা কেন হাজির হল, এই প্রশ্ন উঠতেই বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ‘এরা কেউ স্কুলপড়ুয়া নয়। প্রত্যেকেই জেন জি প্রজন্মের ছেলেমেয়ে।’
জানা গিয়েছে, দুর্গাপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাস ভাড়া করে এই ছেলেমেয়েদের আনা হয়। তবে তাদের অনেকেই জানত না, ঠিক কী উদ্দেশ্যে তাদের সেখানে নিয়ে আসা হয়েছে। কেউ সরাসরি জানায়, ‘জানি না।’ কেউ আবার বলল, ‘প্রেসিডেন্ট আসছেন, তাঁকে স্বাগত জানাতে এসেছি।’ রঘুনাথপুর থেকে আসা একাদশ শ্রেণির ছাত্রী জানায়, ‘নীতিন স্যর আসবেন শুনে তাঁকে স্বাগত জানাতে এসেছি।’ দশম শ্রেণির ছাত্রী জানাতেই পারেনি, কী কারণে সে সেখানে এসেছে।
এই সব কিশোর-কিশোরীদের হাতেই ছিল বিজেপির নানা স্লোগান লেখা পোস্টার। অভিযোগ উঠেছে, বিজেপির যুব নেতা পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায় এই ছেলেমেয়েদের নিয়ে এসেছিলেন। তবে স্কুলপড়ুয়াদের নিয়ে আসার অভিযোগ অস্বীকার করেন পারিজাত। তিনি জানান, ‘কোনও স্কুলপড়ুয়াকে আনা হয়নি। প্রত্যেকের বয়স ১৮ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। প্রত্যেকেই বিজেপির সমর্থক।’
ক্লাস টেন ইলেভেন পড়ুয়ারা কীভাবে ১৮ বছরের হতে পারে তাই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। বিজেপির দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্রের বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোভূই পাল্টা অভিযোগের তীর ছুড়েছেন তৃণমূলের দিকে। তিনি জানান, তৃণমূলও তো ছোট বাচ্চাদের নিয়ে আসে তাদের কর্মসূচিতে।’
সূত্রের খবর, নিতিন নবীন সিটি সেন্টার এলাকার ওই হোটেলে যাওয়ার পরই চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি। হোটেলের তোরণের একটি অংশ ভেঙে যায়। এই ধাক্কাধাক্কির মধ্যেই বিজেপি বর্ধমান জেলা কমিটির সভাপতি অভিজিৎ তা-সহ মোট পাঁচ জনের মানিব্যাগ চুরি যায়।
