ওঙ্কার ডেস্ক: পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করেছে। একাধিক আফগান শহরে পাকিস্তানের বিমান হামলার অভিযোগ ঘিরে দুই দেশের মধ্যে কার্যত সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আফগানিস্তানের তালিবান প্রশাসনের দাবি, পাকিস্তানি বাহিনীর এই হামলার জবাবে পাল্টা আঘাত হেনে অন্তত ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করা হয়েছে। যদিও ইসলামাবাদ সেই দাবি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে।
আফগান সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজধানী কাবুল ছাড়াও কান্দাহার ও পাকতিকা প্রদেশের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণ ও বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, গভীর রাতে আকাশে যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা যায় এবং পরপর বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে বিস্তীর্ণ এলাকা। তালিবান প্রশাসনের তরফে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান সীমান্তবর্তী ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালালেও তাতে বেসামরিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে বলেও অভিযোগ।
অন্যদিকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে জঙ্গি কার্যকলাপ ও পাকিস্তানি চৌকিতে হামলার প্রেক্ষিতেই এই অভিযানে নামা হয়েছে। তাদের দাবি, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালানো হচ্ছিল। সেই সব ঘাঁটিকে লক্ষ্য করেই নির্দিষ্ট সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। পাকিস্তানের তরফে আরও জানানো হয়েছে, তাদের বাহিনীর মাত্র দুই সদস্য নিহত হয়েছেন এবং তালিবান যোদ্ধাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তালিবান প্রশাসন অবশ্য পাল্টা দাবি করে জানিয়েছে, সীমান্তে সংঘর্ষে পাকিস্তানের একাধিক সামরিক পোস্ট দখল করা হয়েছে এবং কয়েকজন সেনাকে আটকও করা হয়েছে। পাশাপাশি তারা দাবি করেছে, পাকিস্তানের একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে। যদিও এই দাবিগুলির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ডুরান্ড রেখা ঘিরে উত্তেজনা চলছে। সীমান্ত চিহ্নিতকরণ, অনুপ্রবেশ ও জঙ্গি আশ্রয়ের অভিযোগ নিয়ে বারবার কূটনৈতিক টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক এই হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পরিস্থিতিকে ‘প্রায় উন্মুক্ত যুদ্ধের’ সমতুল্য বলে উল্লেখ করেছেন।
আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে দুই দেশকেই সংযম দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বহু পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।
