ওঙ্কার ডেস্ক: পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ ফের বিতর্কিত মন্তব্য করে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করলেন। আফগানিস্তানকে ভারতের ‘‘হাতের পুতুল’’ আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন, কাবুল এখন নয়াদিল্লির ইশারাতেই চলে। তাঁর দাবি, দুই দেশের মধ্যে একাধিক বৈঠকে সীমান্ত সন্ত্রাস থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক ইস্যু, বহু বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে আফগানিস্তান আলোচনায় পিছিয়ে যায়। আর এর নেপথ্যে ভারতের প্রভাবই সবচেয়ে বড় কারণ।
সম্প্রতি আফগান-পাক সীমান্তে সশস্ত্র সংঘর্ষের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়েছে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগানিস্তানের মাটিতে আশ্রয় নিচ্ছে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের জঙ্গিরা। পাকিস্তান সরকার দাবি করছে, এই জঙ্গিগোষ্ঠীকে প্রশ্রয় দিচ্ছে আফগান প্রশাসন এবং ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে। খোয়াজা আসিফ বলেন, ‘‘আমরা বহু ইস্যুতে কাবুল প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছিলাম, কিন্তু ভারত তাদের উস্কানি দিতেই সমস্ত আলোচনা বৈঠক ভেস্তে গেছে। আফগানিস্তান এখন নয়া দিল্লির নির্দেশেই চলছে।’’
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্যে পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক চায় ইসলামাবাদ, কিন্তু যদি কাবুল পাকিস্তানের বিরোধীদের পাশে দাঁড়ায়, তবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, আফগানিস্তানের তরফে এখনও এই মন্তব্যের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযোগ শুধুমাত্র কূটনৈতিক চাপ তৈরি করার কৌশল নয়, বরং পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতাকে ঢাকতে এক প্রকার কৌশলগত প্রয়াস। কারণ, সাম্প্রতিককালে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে টিটিপি হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার দায় ইসলামাবাদ তালিবান শাসিত আফগানিস্তানের ঘাড়ে চাপাতে চাইছে।
আন্তর্জাতিক মহলের মতে, ভারত, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে এই ত্রিদেশীয় উত্তেজনা দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। ইতিমধ্যেই জাতিসংঘ ও আমেরিকার পক্ষ থেকে দুই দেশকে সংযত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে ইসলামাবাদ ও কাবুলের এই পারস্পরিক অবিশ্বাসের আবহে শান্তিপূর্ণ সমাধান যে সহজ নয়, তা স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে।
