ওঙ্কার ডেস্ক: সম্প্রতি রিয়াধে স্বাক্ষরিত নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোড়ন শুরু হয়েছে। পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে এই চুক্তি অনুযায়ী, যদি ভবিষ্যতে এক দেশ বাইরের আক্রমণের মুখে পড়ে, তবে অন্য দেশ সেই আক্রমণকে নিজেদের বিরুদ্ধে আঘাত হিসেবেই বিবেচনা করবে। অর্থাৎ এক দেশ আক্রান্ত হলে অপর দেশ সরাসরি প্রতিরক্ষায় নেমে আসবে।
শুধু কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ নয়, এই সমঝোতার আওতায় যৌথ সামরিক মহড়া, অস্ত্র সরবরাহ, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ভাগ করে নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত সমীকরণে এই চুক্তি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা চলছিল। অবশেষে সেটি আনুষ্ঠানিক রূপ পেল এই স্বাক্ষরের মাধ্যমে। পাকিস্তানের কাছে এটি নিঃসন্দেহে এক বড় কূটনৈতিক সাফল্য। আন্তর্জাতিক মঞ্চে সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে বারবার চাপে পড়া ইসলামাবাদ সৌদি আরবের মতো শক্তিশালী আঞ্চলিক শক্তিকে পাশে পেয়ে নিজেদের কূটনৈতিক অবস্থান অনেকটাই মজবুত করতে পারল। অপরদিকে সৌদি আরবও এই পদক্ষেপকে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারের কৌশল হিসেবে দেখছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চুক্তি কার্যকর হলে পাকিস্তান কেবল সামরিক নয়, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও সৌদি বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ পাবে।
এই ঘটনাকে ঘিরে ভারতের কূটনৈতিক মহলে যথেষ্ট চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। সীমান্তে চলমান উত্তেজনা, সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক চাপ এবং ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষাপটে এই প্রতিরক্ষা চুক্তি নয়াদিল্লির উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, সরকার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দেশের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার উপর এই সমঝোতা কী প্রভাব ফেলতে পারে, তার উপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে। যদিও প্রকাশ্যে ভারত কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে কূটনৈতিক মহলের মতে দিল্লি সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এই চুক্তির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাকিস্তান নতুন করে আত্মবিশ্বাস পেতে পারে, অন্যদিকে সৌদি আরবও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করবে। ভারতের কাছে সৌদি আরব একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও জ্বালানি সহযোগী দেশ। কাজেই পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদির এই প্রতিরক্ষা মৈত্রী ভারতের কূটনৈতিক কৌশলকে আরও জটিল করে তুলবে। আন্তর্জাতিক মহলের মতে ভবিষ্যতে নয়াদিল্লিকে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে হবে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের তাগিদে।
