নিজস্ব প্রতিনিধি, কাঁকসা : ভারতীয় বিমানবাহিনীর উড়ান সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এক বিশেষ সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়া হল পানাগড় বিমানঘাঁটি সংলগ্ন এলাকায়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকেই পানাগড়ে গড়ে উঠেছে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি, যেখান থেকে প্রতিনিয়ত মহড়া ও নজরদারির কাজে যাতায়াত করে একাধিক যুদ্ধবিমান। কিন্তু সম্প্রতি এই বিমানঘাঁটির আশপাশের বাজার এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
বিমানঘাঁটি সংলগ্ন স্থানীয় বাজারগুলোতে প্রতিদিন ভোর থেকেই বসে মাছ ও মাংসের বেচাকেনা। অভিযোগ, ব্যবসা শেষে অনেকেই অবশিষ্ট বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে না ফেলে আশপাশের খোলা জায়গায় বা রাস্তায় ফেলে দেন। পচা বর্জ্যের লোভে সংলগ্ন আকাশসীমায় ভিড় জমায় চিল, কাক ও শকুন জাতীয় পক্ষীকুল। বিমান ওঠা বা অবতরণের সময় এ জাতীয় পাখির সঙ্গে বিমানের ধাক্কা লাগলে ঘটতে পারে মারাত্মক বিপর্যয়। এতে যেমন প্রাণহানির ভয় থাকে, তেমনই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে কোটি কোটি টাকার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম।
এই সম্ভাব্য বিপদের কথা মাথায় রেখেই মাঠে নেমেছেন পানাগড় বিমানঘাঁটির আধিকারিকরা। শুরু হয়েছে বিশেষ সচেতনতা শিবির। বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে এলাকার ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে স্পষ্টভাবে বার্তা দেওয়া হয়েছে,যাতে নির্দিষ্ট ডাস্টবিনের ব্যবহার হয়। মাছ ও মাংসের অবশিষ্ট অংশ খোলা জায়গায় না ফেলে ঢাকনা দেওয়া নির্দিষ্ট পাত্র বা ডাস্টবিনে জমা করতে হবে। বাজার পরিষ্কারের পর বর্জ্য যাতে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পঞ্চায়েতের নির্ধারিত স্থানে ফেলা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে ব্যবসায়ীদের। বায়ুমণ্ডলের সুরক্ষা বজায় রাখতে এবং যে কোনো অপ্রীতিকর দুর্ঘটনা এড়াতে সেনাকর্তারা এলাকার সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা বিমানবাহিনীর এই উদ্যোগে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। ভবিষ্যতে যেখানে-সেখানে বর্জ্য ফেললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্তও বিবেচিত হচ্ছে। জাতীয় নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের জীবনের সুরক্ষায় এমন পদক্ষেপ অত্যন্ত সময়োপযোগী বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।