ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের দুবাইয়ে শুক্রবার বিকেলে এয়ার শো চলাকালীন আচমকা ভেঙে পড়ে তেজস যুদ্ধবিমান। মাটিতে আছড়ে পড়ার পর বিস্ফোরণ হয়ে আগুন লেগে যায় যুদ্ধবিমানটিতে। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে এটির পাইলটের। ভারতীয় বিমান বাহিনী এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এদিন বিমান ভেঙে পড়ার পর আল মাকতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চত্বর ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে আইএএফ এর তরফে জানানো হয়েছে, দুবাই এয়ার শোতে একটি বিমান প্রদর্শনীর সময় আইএএফ তেজস বিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়। দুর্ঘটনায় পাইলট নিহত হন। ভারতীয় বায়ুসেনা এই প্রাণহানির জন্য গভীর শোকপ্রপকাশ করেছে। নিহতের পরিবারের পাশে থেকে গোটা ঘটনার তদন্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী এদিন স্থানীয় সময় দুপুর ২টো ১০ মিনিট নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে। হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডের তৈরি এই যুদ্ধবিমানটি একক আসনের ছিল। সূত্রের খবর, দুবাই এয়ার শো বিশ্বের বৃহত্তম বিমান প্রদর্শনীগুলির মধ্যে একটি।

তেজস ফাইটার জেট সম্পর্কে ৫টি তথ্য :
এক, তেজস একটি একক আসনের যুদ্ধবিমান। যদিও বিমান বাহিনী একটি টুইন-সিটের প্রশিক্ষক ভেরিয়েন্টও পরিচালনা করে। ভারতীয় নৌবাহিনীও টুইন-সিটের ভেরিয়েন্টটি পরিচালনা করে। টেকনোলজি ডেমোনস্ট্রেটর-১ (TD-1)-এর প্রথম পরীক্ষামূলক উড়ান ছিল ২০০১ সালে। প্রাথমিক অপারেশনাল ক্লিয়ারেন্স (IOC) কনফিগারেশনের সেকেন্ড সিরিজ প্রোডাকশন (SP2) তেজস বিমানের প্রথম উড়ান হয় ২০১৬ সালের ২২ মার্চ।
দুই, তেজসের সর্বোচ্চ পেলোড ধারণক্ষমতা ৪,০০০ কেজি, যা একক-পাইলট, একক-ইঞ্জিন বিমান হিসেবে কাজ করে। এটি সর্বোচ্চ ১৩,৩০০ কেজি ওজন বহন করতে পারে।
তিন, হালকা যুদ্ধ বিমান তেজাস একটি ৪.৫-প্রজন্মের বহুমুখী যুদ্ধ বিমান যা শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে আক্রমণে সাহায্য করে। এটি এমন ভাবে ডিজাইন করা যে স্থল অভিযানের ক্ষেত্রে ভীষণ কার্যকরী।
চার, ২০১৬ সালে তেজাসকে অন্তর্ভুক্ত করা প্রথম ভারতীয় বিমান বাহিনী স্কোয়াড্রন ছিল ‘উড়ন্ত ছোরা’। দেশীয় ফাইটার জেটটি তার শ্রেণীর সবচেয়ে ছোট এবং হালকা বিমান। এর মাত্রা এবং কম্পোজিট কাঠামোর ব্যাপক ব্যবহার এটিকে হালকা করে তোলে।
পাঁচ, মেক ইন ইন্ডিয়া প্রতিরক্ষা প্রকল্পের জন্য একটি বড় উৎসাহ হিসেবে, ভারত আগস্ট মাসে ভারতীয় বিমান বাহিনীর জন্য ৯৭টি LCA তেজাস মার্ক ১এ যুদ্ধ বিমান কেনার প্রকল্প অনুমোদন করে।
