ওঙ্কার ডেস্ক : ইরানকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার কুখিগত করে রাখতে দেবে না আমেরিকা। শনিবার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকে এই দাবি করেন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও। তিনি এও নিশ্চিত করেন, মার্কিন জ্বালানি পণ্যের মাধ্যমে ভারতের জ্বালানি সরবরাহে বৈচিত্র্য আনার সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন বিদেশ দফত্র সূত্রে এই তথ্য মিলেছে।
মার্কিন বিদেশ দফতরের মুখপাত্র টমি পিগটের জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বিদেশ সচিব এবং প্রধানমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। মার্কিন বিদেশ সচিব জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানকে আন্তর্জাতিক বাজার বাজার কুখিগত করে রাখতে দেবে না এবং তিনি এও নিশ্চিত করেছেন যে মার্কিন জ্বালানি পণ্যের মাধ্যমে ভারতের জ্বালানি সরবরাহে বৈচিত্র্য আনার সম্ভাবনা রয়েছে। দু দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক সাফল্যগুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ। ২০৩০ সালের মধ্যে বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ‘মিশন ৫০০’-কে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।”
মুখপাত্রের মতে, সেক্রেটারি রুবিও মার্কিন-ভারত অংশীদারিত্বের কৌশলগত গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন, যা অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, গভীর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সুযোগ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী মোদীর মধ্যকার দৃঢ় ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। বৈঠকের পর রুবিও এক্স-এ একটি পোস্ট করেন, যাতে লিখেছেন, “নয়াদিল্লিতে, আমি মার্কিন-ভারত সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। আমরা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং জ্বালানি খাতে মার্কিন-ভারত অংশীদারিত্ব, গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষিত করা এবং উদীয়মান প্রযুক্তিতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছি। প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানাতে পেরে আমি আনন্দিত।”
পিগট উল্লেখ করেন, “সেক্রেটারি এবং প্রধানমন্ত্রী বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ ও উদীয়মান প্রযুক্তিতে সহযোগিতা ত্বরান্বিত করতে সম্মত হয়েছেন।” রুবিও আসন্ন কোয়াড বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকের আয়োজক হিসেবে ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও জাপানের পাশাপাশি একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা তুলে ধরেছে।
মার্কিন বিদেশ সচিব নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোর পরপরই প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী মোদী সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, বিশ্ব কল্যাণের জন্য উভয় দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাবে। মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওকে পেয়ে আমি আনন্দিত। আমরা ভারত-মার্কিন ব্যাপক বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বে ধারাবাহিক অগ্রগতি এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব কল্যাণে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাবে।”
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, সফররত মার্কিন বিদেশ সচিব মোদীকে প্রতিরক্ষা, কৌশলগত প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, সংযোগ, শিক্ষা এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্কসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ধারাবাহিক অগ্রগতি সম্পর্কে কথা বলেছেন। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বিদেশ সচিব রুবিও পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে মার্কিন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। প্রধানমন্ত্রী শান্তি প্রচেষ্টায় ভারতের ধারাবাহিক সমর্থনের কথা বলেছেন এবং আলাপচারিতা ও কূটনীতির মাধ্যমে সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান পুনরায় তুলে ধরেছে।” ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “প্রধানমন্ত্রী সেক্রেটারি রুবিওকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তাঁর উষ্ণ শুভেচ্ছা পৌঁছে দিতে অনুরোধ করেছেন। বলেছেন, তিনি তাঁদের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন।”
‘এক্স’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর বলেছেন,, বৈঠকে উভয় পক্ষ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মার্কিন-ভারত সহযোগিতা আরও গভীর করার উপায় নিয়ে একটি “ফলপ্রসূ আলোচনা” করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের একটি “অত্যাবশ্যকীয় অংশীদার” হিসেবেই রয়েছে।
‘এক্স’-এ একটি পোস্টে গোর জানিয়েছেন,”প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকে সেক্রেটারি রুবিওর সঙ্গে যোগ দিতে পেরে দারুণ লাগলো। নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং অত্যাবশ্যকীয় প্রযুক্তি—এই ক্ষেত্রগুলিতে মার্কিন-ভারত সহযোগিতা আরও গভীর করার উপায় নিয়ে আমাদের একটি ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এই ক্ষেত্রগুলি আমাদের উভয় দেশকে শক্তিশালী করে এবং একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিককে এগিয়ে নিয়ে যায়।”
এর আগে দিনের শুরুতে, রুবিও কলকাতায় এসে পৌঁছান। এখান থেকেই তিনি তাঁর চার দিনের ভারত সফর শুরু করেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাষ্ট্রদূত গোর তাঁকে স্বাগত জানান। স্ত্রী জ্যানেট রুবিওর সঙ্গে মার্কিন বিদেশ সচিব কলকাতায় ‘মিশনারিজ অফ চ্যারিটি’-র ‘মাদার হাউস’ পরিদর্শন করেন।
ভারত সফরের আগে রুবিও বলেছেন যে, ওয়াশিংটন নয়াদিল্লির সঙ্গে জ্বালানি সম্পর্ক প্রসারিত করতে এবং কোয়াডের মাধ্যমে সমন্বয় আরও গভীর করতে চায়। হরমুজ প্রণালী সম্পর্কিত বৈশ্বিক সরবরাহ বিঘ্নের মধ্যে তিনি ভারতকে একটি ‘মহান মিত্র’ এবং ‘মহান অংশীদার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিদেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রুবিওর এই সফর ভারত-মার্কিন কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে।