
নয়ন বিশ্বাস রকি
দেশের কোটি মানুষ তাকিয়ে আছে জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিকে। যিনি সংকটকালে বাঙালির ভরসার প্রতীক। বাঙালি জাতির ইতিহাসে তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, বরং একটি অবিনশ্বর, অক্ষয় অধ্যায়ের নাম। যেখানে অন্যায়, অবিচার আর দুঃশাসনের ছায়া পড়ে, সেখানেই মানুষের চোখ ফেরে বঙ্গবন্ধুকন্যার দিকে।
২০০৮ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থেকে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের স্তরে নিয়ে গেছেন। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকল্প—সবই তার নেতৃত্বে বাস্তব হয়েছে। অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং বৈদেশিক নীতিতে বাংলাদেশকে মর্যাদার আসনে বসিয়েছেন তিনি।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দেশে আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং বিরোধী মতের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চয়তা বেড়েছে। এমন বাস্তবতায় জনগণের একাংশ মনে করছে, শুধুমাত্র শেখ হাসিনার অভিজ্ঞ হাতই দেশকে এই দুঃসময় থেকে টেনে তুলতে পারে।
শেখ হাসিনা: অনুভূতির নাম, আস্থার নাম
শেখ হাসিনা মানে শুধু রাজনীতি নয়, এটি বাঙালির টিকে থাকার লড়াইয়ের প্রতীক। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর নির্বাসিত জীবন থেকে ১৯৮১ সালে স্বদেশে ফিরে তিনি আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে নেতৃত্ব দেন। তার প্রতিটি ফেরা ছিল সংকটে জাতির জন্য নতুন আশার বার্তা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার শক্তি হল তাঁর জনসংযোগ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্যতা। তিনি যখন কথা বলেন, তখন শুধু আওয়ামী লীগের কর্মী নয়, সাধারণ মানুষও শোনেন।
জনতার প্রত্যাশা: দ্বিতীয় স্বদেশ প্রত্যাবর্তন
দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে এখন একটাই আলোচনা—শেখ হাসিনা কবে ফিরবেন ? ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর উদ্ভূত রাজনৈতিক অস্থিরতায় প্রবাসী বাংলাদেশি এবং দেশের ভেতরের মানুষ উভয়েই মনে করছেন, তার অনুপস্থিতি একটি শূন্যতা তৈরি করেছে।
“শেখ হাসিনা ফিরবেন, হতেই হবে”—এই বিশ্বাস এখন তৃণমূল থেকে প্রবাস পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। তার প্রত্যাবর্তনকে অনেকেই দেখছেন গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সামাজিক শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ হিসেবে।
বিশ্লেষণ : কেন এখন শেখ হাসিনাকে প্রয়োজন ?
- স্থিতিশীলতা
বিনিয়োগ, শিল্প ও অর্থনীতিতে স্থিতিশীল নীতির অভাব দেখা দিয়েছে। শেখ হাসিনার সরকারের সময় বিদেশি বিনিয়োগ ও রেমিট্যান্স প্রবাহ স্থিতিশীল ছিল। - আইনের শাসন
সুশাসন ও জবাবদিহিতার জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতৃত্ব, যা তিনি অতীতে প্রমাণ করেছেন। - আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যুতে মানবিক ভূমিকা নিয়ে বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। - সংগঠনিক শক্তি
আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল এখনো সক্রিয়, যা পুনর্গঠনের ভিত্তি হতে পারে।
উপসংহার
বাঙালি জাতি বারবার প্রমাণ করেছে, সংকটে তারা পিছিয়ে যায় না। আর সেই লড়াইয়ের সামনের সারিতে থাকেন শেখ হাসিনার মতো নেতা। অন্যায়-অবিচার, জুলুম-নির্যাতন থেকে দেশকে মুক্ত করতে এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে জনগণ এখনো তার দিকেই তাকিয়ে আছে। দেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা, শেখ হাসিনা আবারও স্বদেশে ফিরে আসবেন এবং বাংলাদেশকে নিয়ে যাবেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার পথে।