ওঙ্কার ডেস্ক: ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। এই সম্মান পাওয়ার মাধ্যমে তিনি বিশ্বের প্রথম কোনও রাষ্ট্রনেতা হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিলেন।
ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ নিজে প্রধানমন্ত্রী মোদির হাতে এই সম্মান তুলে দেন। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই মুহূর্তকে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে মনে করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইথিওপিয়ার মন্ত্রিসভার সদস্য, কূটনীতিক মহল ও আন্তর্জাতিক অতিথিরা। সম্মান প্রদানকালে ইথিওপিয়ার নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভারত ও ইথিওপিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বের জন্যই তাঁকে এই বিশেষ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। আফ্রিকার প্রাচীনতম সভ্যতাগুলির অন্যতম ইথিওপিয়া ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও গভীর করতে চায় বলেও উল্লেখ করা হয়।
সম্মান গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এই পুরস্কার কেবল তাঁর একার নয়, বরং ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের। তিনি ইথিওপিয়ার জনগণ ও নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা এবং অভিন্ন উন্নয়নের লক্ষ্যের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। ভারত ও ইথিওপিয়ার বন্ধুত্ব ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী মোদি ইথিওপিয়া সফরে রয়েছেন এবং দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। বৈঠকে বাণিজ্য, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভারতীয় শিক্ষক ও পেশাদারদের ইথিওপিয়ার উন্নয়নে ঐতিহাসিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সম্মান শুধু ব্যক্তিগত স্বীকৃতি নয়, বরং ভারত ও ইথিওপিয়ার ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের প্রতিফলন। আফ্রিকার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই ঘটনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
