চলে গেলেন রাহুল। বাংলা কবিতায় যাঁর ছিল অফুরন্ত প্রাণশক্তি, সেই রাহুল পুরকায়স্থ নার্সিং হোম থেকে বেরিয়ে এলেন প্রাণহীন শরীরে। যে কিনা একদিন লিখেছিলেন……পাশ ফিরি, স্পর্শে বিদ্যুৎ ! কে ছুঁয়েছে শরীর আমার / দিবাস্বপ্ন ! রঙের গোপন !/ পাশে তো কেউ নেই…… সেই রাহুল আর আমাদের পাশে রইলেন না। কবি রাহুল পুরকায়স্থ আজ আর আমাদের মধ্যে নেই। সবে ৬০ পেরানো বয়সে কী এমন তাড়া ছিল ! শারীরিক অসুস্থতার কারণে শহরের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন রাহুল। গত ২২ জুলাই ভোর থেকে শরীরের অবস্থা হঠাৎ করেই খারাপের দিকে যেতে শুরু করে। পালস স্বাভাবিক ছিল না। চিকিৎসকের প্রচেষ্টায় সাময়িক স্থিতি এলেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। শুক্রবার দুপুর ২টো ১০ মিনিট থেমে গেল সব। প্রশ্ন একটাই, কবিতা আর সাংবাদিকতার দুই ধারাকে সামলে চলা মানুষটি নিজেকে সামলাতে পারলেন না ?
চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন,, একমাত্র ভরসা এক্সটারনাল পেসমেকার বসানো, তবে তার ঝুঁকি ছিল। তবু পরিবারের সম্মতিতেই সে পথেই এগিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। রাহুলকে ইনটিউবেশন করে চিকিৎসকেরা সময় কেনার লড়াই শুরু করেন। ২৩ জুলাই, সাময়িক স্বস্তি — পেসমেকারের কারণে হার্টরেট নিয়মিত। কিন্তু সেপসিসের সংক্রমণ তখন আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ছে শরীরে। সিআরপি লাফিয়ে বেড়ে গেল ১০০-র গণ্ডি ছাড়িয়ে। ডাক্তাররা বাধ্য হয়ে কলিস্টিন ব্যবহার শুরু করেন। ২৪ জুলাই, ডাক্তার জানান — ছ’টি অঙ্গ অকেজো, ল্যাকটেট বেড়েই চলেছে, শুরু হয়েছে ডায়ালিসিস। কিন্ত তারা জানতেন, সময় বড় বেশি নেই হাতে।
আশির দশক থেকে নিয়মিত কবিতা লিখতে শুরু করে রাহুল। তাঁর প্রথম বই ‘অন্ধকার প্রিয় স্বরলিপি’। পরবর্তীকালে আরও ১৯টি কবিতার বই প্রকাশ পেয়েছে, দে’জ পাবলিশিং থেকে শ্রেষ্ট কবিতাও। ‘নেশা এক প্রিয় ফল’, ‘আমার সামাজিক ভূমিকা’, ‘ও তরঙ্গ লাফাও’, ‘সামান্য এলিজি’র মতো উল্লেখযোগ্য কিছু কাব্যগ্রন্থ তিনি রেখে গেলেন আগামী প্রজন্মের জন্য। তাঁর লেখা, ‘এ-শহরে প্রেম আসে/ উল্কাপাত হয়/ প্রতিটি সন্ধ্যাই জানি/ বিগ্রহের রতিচ্যুত ক্ষয়’… সেই প্রেম, সেই উল্কাপাতের ক্ষিপ্রতা ছেড়ে বিদায় নিলেন কবি।
