ওঙ্কার ডেস্ক: দুর্গাপুরে চিকিৎসক শিক্ষার্থী ধর্ষণ-কাণ্ড নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্কের মধ্যেই তৃণমূল নেতৃত্বকে কটাক্ষ করে নতুন প্রচার অভিযান শুরু করেছে রাজ্য বিজেপি। বিজেপির ব্যঙ্গাত্মক প্রচারে দাবি করা হয়েছে, রাত ৮টার পর তৃণমূল কংগ্রেসের দফতর বন্ধ করে তাদের নেতাদের বাড়িতে আটকে রাখলে রাজ্যে ধর্ষণের ঘটনা ৯০ শতাংশ কমে যাবে।
এক্স হ্যান্ডল থেকে বিজেপির এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির আইটি সেল প্রধান এবং রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অমিত মালব্য লিখেছেন, “এই পোস্টটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যর্থতার প্রতীক। ওনাকে এখনই পদত্যাগ করতে হবে”। এর আগে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের নির্যাতিতার মা জানিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের ধর্ষকদের মাথার উপর তৃণমুলের হাত থাকে।
দলীয় মুখপাত্র শতরূপা সংবাদ মাধ্যমকে জানান, “হাঁসখালি কাণ্ড, আরজি করের জুনিয়র চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড, কসবা ল’কলেজ ধর্ষণ একাধিক ঘটনায় তৃণমূল নেতাদের আত্মীয় বা ঘনিষ্ঠদের নাম উঠে এসেছে। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহিলাদের রাতের বেলা বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ না দিয়ে বরং নিজের দলের নেতাদের ৮টার পর বাড়িতে থাকতে বললেই অপরাধ অনেকটা কমবে।” বিজেপি নেতা রাহুল সিনহাও তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, “তৃণমূল নেতাদের আতঙ্কের রাজত্বে রাজ্যের মহিলারা নিরাপত্তাহীন। যতদিন না এই সরকারকে সরানো হচ্ছে, ততদিন পরিবর্তন সম্ভব নয়।” বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও দাবি করেছেন, দুর্গাপুর ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার এক অভিযুক্তের বাবা স্থানীয় তৃণমূল কর্মী। তাঁর অভিযোগ, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যেই বাংলায় নারি দের সুরক্ষার গাফিলতি চোখে পড়ে’।
এর পাল্টা জবাবে তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “প্রথমে বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে ধর্ষণ বাড়ছে কেন, তার উত্তর দিন। ওড়িশার সমুদ্রসৈকতে, উত্তরপ্রদেশের হাতরস, উনাও সব জায়গাতেই নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। তাহলে কি বিজেপি নেতাদেরও রাত ৮টার পর ঘরে থাকতে বলা উচিত? দুর্গাপুর কাণ্ডে পাঁচ অভিযুক্তকেই পুলিশ দ্রুত গ্রেফতার করেছে। বিজেপি পুরো বিষয়টিকে রাজনৈতিক রঙ দিচ্ছে।”
