নিজস্ব প্রতিনিধি : রবিবার সকালে বীরভূম জেলার রামপুরহাটে নিজের বাড়ি লাগোয়া পার্টি অফিসে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক তর্জা। বেলিয়াঘাটা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ এই মৃত্যুর নিরপেক্ষা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। কুণাল বলেছেন, “নিজের সুইসাইড নোটে তিনি লিখেছিলেন যে, সামাজিক অপমানের আশঙ্কায় সৃষ্ট মানসিক চাপ তিনি আর সহ্য করতে পারছিলেন না। ‘ভালো তৃণমূল’হয়েও তিনি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারলেন না। এর দায় ভারতীয় জনতা পার্টির নেওয়া উচিত। আমরা এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।”
মৃত নেতাকে ‘ভালো তৃণমূল’ বলে উল্লেখ করার মধ্যে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত রয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে এই মর্যাদাহানীর ভয়েই কি আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ’ গোষ্ঠীতে ?
বীরভূম জেলার রামপুরহাট বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহাও এই ঘটনায় বিস্ময় ও শোক প্রকাশ করেছেন। উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে তিনি প্রায় ২৪,০০০ ভোটের ব্যবধানে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছিলেন। ধ্রুব সাহা বলেছেন, “কয়েক দিন আগেই তাঁর সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। তিনি যে এমন চরম পদক্ষেপ নিতে পারেন, তা আমি এখনও ভাবতেই পারছি না। পাঁচবারের একজন বিধায়ক কেন এমন কাজ করলেন—তাও আবার এই বয়সে—সে বিষয়ে তদন্ত হওয়া উচিত। প্রয়োজনে অন্য কোনো সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করানো হোক। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা দরকার।”
পেশায় শিক্ষক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় রামপুরহাট বিধানসভা কেন্দ্র থেকে পাঁচবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পূর্ববর্তী মন্ত্রিসভায় তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন। এর আগের মেয়াদে তিনি বিধানসভার ডেপুটি স্পিকারের পদেও আসীন ছিলেন। এবার বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয় এবং নিজের ব্যক্তিগত পরাজয়ের পর থেকে তিনি দলের নেতৃত্বের সঙ্গে প্রায় যোগাযোগহীন অবস্থায় ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই মধ্যবর্তী সময়ে তিনি রাজনৈতিক কাজকর্ম থেকেও নিজেকে দূরে রেখেছিলেন।