নিজস্ব সংবাদদাতা, গাইঘাটা: গাইঘাটায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের শরীরে তিনটি গুলির আঘাত পাওয়া গিয়েছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দুটি গুলি বিদ্ধ হয়েছে বুকে, তৃতীয়টি বাঁ পায়ের উরুতে।
সোমবার রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও পুনর্নির্মাণ শেষে ফেরার পথে এই ঘটনা ঘটে বলে পুলিশের দাবি। তাদের বক্তব্য, ফেরার সময় হঠাৎই পুলিশের এক সদস্যের আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নেয় প্রহ্লাদ। এরপর পালানোর চেষ্টায় তিন রাউন্ড গুলি চালায় সে। সেই সময় এক পুলিশকর্মী আহত হন। যদিও আহত পুলিশকর্মীর শরীরে গুলি লেগেছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে অভিযুক্তকে যে গাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সেই গাড়ির গায়ে গুলির চিহ্ন মিলেছে।
পুলিশের পাল্টা দাবি, আত্মরক্ষার জন্য তারাও চার রাউন্ড গুলি চালাতে বাধ্য হয়। সেই গুলিতেই লুটিয়ে পড়ে প্রহ্লাদ। গুরুতর অবস্থায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয় চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে, সেখানেই চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরে দেহ পাঠানো হয় বারাসাত মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্তের জন্য।
এদিকে পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, সোমবার মধ্যরাতে পুলিশ তাদের বাড়িতে আসে এবং প্রহ্লাদের বাবা-মাকে সঙ্গে যেতে বলে। পরদিন সকালে পরিবার জানতে পারে এনকাউন্টারে তার মৃত্যু হয়েছে। মৃতের ভাই এই তথ্য জানিয়েছেন।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, ওই কিশোরী সম্পর্কে প্রহ্লাদের দূর সম্পর্কের আত্মীয় ছিল। কিশোরীকে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেয় সে, কিন্তু কিশোরী প্রত্যাখ্যান করায় ভারী বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করে অচেতন করা হয়। এরপর তার উপর নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার পর রক্তাক্ত অবস্থায় কিশোরীকে ফেলে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত। পুলিশের দাবি, প্রহ্লাদের শরীরেও ধস্তাধস্তির চিহ্ন ও নখের আঁচড় পাওয়া গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার রাতে গাইঘাটা থানা এলাকার ১৭ বছর বয়সি ওই কিশোরী বাড়ির পাশে একটি জলসা দেখতে গিয়েছিল। পরিবার ও বন্ধুরা সেখানেই ছিল। পরিবারের দাবি, রাত আনুমানিক সাড়ে এগারোটা নাগাদ তার মোবাইলে একটি ফোন আসে, ফোন পেয়ে সে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি। সারা রাত খোঁজাখুঁজির পর রবিবার সকালে প্রতিবেশীর বাড়ির পিছন থেকে বিবস্ত্র ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় তার দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে তাকে। ওইদিনই অভিযুক্ত প্রহ্লাদকে গ্রেফতার করে পুলিশ।