শুক্লা মাইতি
ব্যারাকপুরের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করল সিপিআইএমের আরেক শীর্ষ নেতার দলত্যাগের সিদ্ধান্ত। প্রতীক ঊর রহমানের পর এবার দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করলেন ব্যারাকপুরের সিপিআইএম নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ তড়িৎ বরন তোপদারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী অরূপ ভট্টাচার্য্য। দীর্ঘদিন ধরে দলে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা এই নেতার এমন সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
ব্যারাকপুরের বাসিন্দা অরূপ ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন, তিনি আপাতত Communist Party of India (Marxist) ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তবে অন্য কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কিছু স্থির করেননি। তাঁর কথায়, দলের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা চলে আসছে। দলের নীতি ও আদর্শের সঙ্গে বাস্তব কাজকর্মের কোনও মিল নেই বলেই তিনি মনে করছেন। দল পরিচালনায় শৃঙ্খলার অভাব এবং কর্মীদের মধ্যে হতাশাই তাঁকে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে বলে জানান তিনি। সংবাদমাধ্যমের কাছে নিজের প্রতিক্রিয়ায় অরূপ ভট্টাচার্য্য বলেন, “দলের মধ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই। বহুদিন ধরেই অনিয়ম-বেনিয়ম চলেছে। এর ফলে সাধারণ কর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়েছে। আমি মনে করি, এভাবে চলতে থাকলে দল আগামী দিনে শূন্য থেকে আরও মহাশূন্যে পৌঁছে যাবে।”
প্রসঙ্গত, এর আগেই সিপিআইএম ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন প্রতীক ঊর রহমান। তাঁর সেই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন অরূপ ভট্টাচার্য্য। পাশাপাশি তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে এই দল থেকে আরও বহু নেতা-কর্মী বেরিয়ে যেতে পারেন। দলের ভেতরের অসন্তোষ ক্রমেই প্রকাশ্যে চলে আসবে বলেও মনে করছেন তিনি। যদিও প্রতীক ঊর রহমানের দলত্যাগের সময় CPIM রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেছিলেন, বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে যেকোনো কর্মীর দলত্যাগ আমাদের কাছে সন্তান হারানোর সমান।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সিপিআইএমের এই ভাঙন দলের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। বিশেষ করে ব্যারাকপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ধারাবাহিকভাবে নেতা-কর্মীদের দলত্যাগ সিপিআইএমকে নতুন করে চিন্তায় ফেলেছে। দলীয় নেতৃত্বের তরফে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে, ব্যারাকপুরের রাজনীতিতে সিপিআইএমের অভ্যন্তরীণ সংকট আরও একবার প্রকাশ্যে এল। প্রতীক ঊর রহমানের পর অরূপ ভট্টাচার্য্যের দলত্যাগের সিদ্ধান্ত যে আগামী দিনে রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
