ওঙ্কার ডেস্ক: জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড ভারতীয় ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়, যা ব্রিটিশ শাসকের অত্যাচারের নগ্ন রূপ সারা বিশ্বের সামনে উন্মোচন করেছিল। সেই ভয়াবহ হত্যালীলার বিরুদ্ধে প্রথম যে মানুষটি সরব হয়েছিলেন এবং নিজের সম্মান ও উপাধি বিসর্জন দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন, তিনি ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। অথচ সেই রবীন্দ্রনাথের কোনও উল্লেখ নেই জালিয়ানওয়ালাবাগেক, নেই কোনো মুর্তি এবং ভবিষ্যতেও তা বসানোর কোনও পরিকল্পনা নেই, স্পষ্ট জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। বৃহস্পতিবার সংসদে তৃণমূল সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রের এই জবাব ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
সংসদ ভবনের বাইরে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ঋতব্রত বলেন, “তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রকের কাছে আমরা জানতে চেয়েছিলাম জালিয়ানওয়ালাবাগ স্মৃতিসৌধে রবীন্দ্রনাথের কোনও মূর্তি আছে কি না, না থাকলে তা স্থাপনের কোনও পরিকল্পনা আছে কি না। কেন্দ্র জানিয়ে দিয়েছে, নেই। এই উত্তরে আমরা একেবারেই সন্তুষ্ট নই।”তিনি মনে করিয়ে দেন, ১৯১৫ সালে রবীন্দ্রনাথকে নাইটহুড উপাধি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ১৯১৯ সালের সেই নৃশংস হত্যালীলার পরে এক মুহূর্তও তিনি নষ্ট করেননি। ক্ষোভে-ঘৃণায় উপাধি ফিরিয়ে দিতে ব্রিটিশ সরকারকে চিঠি লিখেছিলেন তিনি। সেই চিঠি আজও বিশ্বজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসের অন্যতম প্রামাণ্য দলিল হিসেবে পড়ানো হয়।
ঋতব্রতর দাবি, “জালিয়ানওয়ালাবাগে রবীন্দ্রনাথের মূর্তি অবিলম্বে স্থাপন করা উচিত। সঙ্গে থাকা উচিত সেই ঐতিহাসিক চিঠিটিও, যাতে নতুন প্রজন্ম জানতে পারে কবিগুরুর প্রতিবাদের সাহস আর নৈতিকতা”। কেন্দ্রের এই মনোভাবকে বাংলাবিরোধী আখ্যা দিয়ে তৃণমূল সাংসদ বলেন, “বিজেপি আসলে বাঙালির ইতিহাস, বাঙালির অহংকার মুছে দিতে চায়। যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে স্কুলের পাঠ্যক্রম থেকে রবীন্দ্রনাথকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আর এখন জালিয়ানওয়ালাবাগে রবীন্দ্র মূর্তি নিয়ে এই জবাব। বাংলার মানুষ এর যোগ্য জবাব দেবে।”
ঋতব্রতর কথায়, শুধুমাত্র বাংলার সংস্কৃতি বা রবীন্দ্রনাথকে অবজ্ঞা নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাংলার আত্মমর্যাদার বিরুদ্ধেও এক প্রকার আঘাত। রবীন্দ্রনাথের মতো ব্যক্তিত্ব, যিনি জাতিকে নিজের প্রতিবাদের ভাষা শিখিয়েছিলেন, তাঁকে যথোচিত সম্মান না দেওয়া নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ারই আরেকটা চেষ্টা বলে মনে করছে বিরোধীরা।
