ওঙ্কার ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে প্রধান তথ্য কমিশনার এবং সতর্কতা কমিশনার নিয়োগের উদ্দেশ্যে গঠিত উচ্চপর্যায়ের নির্বাচনী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তীব্র মতবিরোধ স্পষ্ট হয়ে উঠল। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। দীর্ঘ আলোচনার মাঝেই তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে মনোনয়নের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যে প্রার্থীতালিকা পেশ করা হয়েছে, তা তিনি কোনওভাবেই সমর্থন করতে পারছেন না। বৈঠকের শেষে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ভিন্নমত নোট জমা দেন, যেখানে নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং নির্বাচিত প্রার্থীদের সামাজিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, তালিকাভুক্ত প্রার্থীদের মধ্যে তপশিলি জাতি, তপশিলি উপজাতি, ওবিসি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব প্রায় নেই বললেই চলে। তাঁর দাবি, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষপদগুলিতে নির্বাচন করার সময় স্বচ্ছতা, ন্যায্যতার পাশাপাশি সামাজিক বৈচিত্র্যও গুরুত্ব পাওয়া উচিত। কিন্তু সরকারের প্রস্তুত করা চূড়ান্ত তালিকায় সেই ভারসাম্য স্পষ্ট নয়। প্রক্রিয়ার ধরণ নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, প্রার্থীদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং মূল্যায়ন সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য কমিটির সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে যথোপযুক্ত তুলনামূলক মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়নি।
বৈঠকটি প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে। সূত্রের দাবি, আলোচনার মাঝে রাহুল গান্ধী বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরে বুঝিয়ে দেন কীভাবে তথ্য কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট অন্য পদগুলিতে বছরের পর বছর ধরে কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষই বেশি সুযোগ পেয়ে এসেছে। তিনি মনে করেন, এই পরিস্থিতি বদলাতে হলে নির্বাচন প্রক্রিয়াতেই মৌলিক পরিবর্তন আনা দরকার। কিন্তু সরকার যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে, তা সেই দিক থেকে সন্তোষজনক নয়। তাঁর এই আপত্তির ফলে বৈঠকের পরিবেশ কিছুক্ষণ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যদিও সরকারি পক্ষ থেকে কোনও সরাসরি পাল্টা মন্তব্য করা হয়নি।
সরকারি মহলের বক্তব্য, সমস্ত প্রার্থীই যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই বাছাই করা হয়েছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রয়োজনীয় বিধি অনুযায়ীই চলছে। তবে বিরোধী শিবির মনে করছে, এই ধরনের শীর্ষপদে নিয়োগ যদি পর্যালোচনা বা জবাবদিহির আওতায় না আসে, তবে স্বচ্ছতা আরও কমে যাবে এবং রাজনৈতিক প্রভাব বাড়বে।
বৈঠক শেষ হলেও রাহুল গান্ধীর ভিন্নমত নোট প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে। বিরোধী শিবির বলছে, এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হল যে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিরোধী মতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয় না। অন্যদিকে, সরকারি শিবিরের দাবি, বিরোধীরা ইচ্ছাকৃতভাবে বিতর্ক সৃষ্টি করছে।
