ওঙ্কার ডেস্ক: ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে দিল দিল্লি পুলিশের অর্থ অপরাধ দমন শাখা। কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধি ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি নাম রয়েছে আরও কয়েকজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও তিনটি সংস্থার নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, অ্যাসোসিয়েটেড জার্নালস লিমিটেড বা এজেএল-এর সম্পত্তি ও মালিকানা ইয়ং ইন্ডিয়ান নামে একটি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াই ছিল একটি সুপরিকল্পিত অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র।যার করা হয়েছিল বহু বছর ধরেই।
তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, এজেএল-এর বিপুল অঙ্কের সম্পত্তি ও আর্থিক দায় মাত্র অল্প কিছু টাকার বিনিময়ে ইয়ং ইন্ডিয়ানের হাতে হস্তান্তর করা হয়, যা নিছকই কাগজে কলমে ছিল বলেই অভিযোগ। পুরনো ঋণকে ইকুইটিতে রূপান্তর, অস্বচ্ছ আর্থিক লেনদেন, শেল কোম্পানির মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, সব কিছুরই হদিশ পেয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। তদন্তকারীদের ধারণা, গোটা পরিকল্পনার উদ্দেশ্য ছিল বহু হাজার কোটি টাকার সম্পদ কম দামে অধিগ্রহণ এবং সংস্থার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন করা।
এই মামলার সূত্রপাত ২০১২ সালে। পরে কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তের ফলে একাধিক আর্থিক অসংগতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। পরবর্তী সময়ে ইডি মামলার চার্জশিট দাখিল করে, যেখানে প্রথমবারের মতো সোনিয়া ও রাহুলের ভূমিকা নিয়ে নির্দিষ্ট প্রশ্ন ওঠে। তাদের দাবি, এই লেনদেনে আর্থিক দুর্ব্যবহার এবং প্রতিষ্ঠানের সম্পদের অবৈধ দখলের স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
নতুন এফআইআর দায়ের হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নিয়েছে। শেয়ার হস্তান্তর, সংস্থার পরিচালনা পরিষদের ভূমিকা, অর্থের উৎস ও বহির্গমন, সবকিছু ফের খতিয়ে দেখবে তদন্তকারী সংস্থা। বিশেষ করে ইয়ং ইন্ডিয়ানের প্রাথমিক অর্থপ্রবাহ কীভাবে এল, কোন কোন সংস্থা বা ব্যক্তি সেই অর্থের উৎস হিসেবে কাজ করল এবং কীভাবে অস্বাভাবিকভাবে মূল্যবান সম্পত্তির মালিকানা বদল হল, এই সব প্রশ্ন এখন তদন্তের কেন্দ্রে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও তীব্র। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, বিরোধী নেতাদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে তদন্ত এগোনো হচ্ছে এবং এটি প্রকৃত অর্থে রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই প্রতিফলন। বিপরীতে তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি, তাদের হাতে যথেষ্ট প্রাথমিক প্রমাণ রয়েছে এবং মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে যথাযথ আইনানুগ পথেই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। মামলাটির পরবর্তী ধাপ হিসেবে এখন নজর থাকবে আদালতে উপস্থাপিত নথি, আর্থিক অডিট রিপোর্ট, কোম্পানি রেজিস্ট্রি সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ওপর।
