স্পোর্টস ডেস্ক : শুরুটা খুব খারাপ হলেও টুর্নামেন্টের মাঝামাঝি সময়ে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। যার ফল পর পর চার ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেছিল দলটি। তবে বুধবার বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে ৬ উইকেটে হারের মুখ দেখতে হল কলকাতাকে। টস জিতে প্রথমে কলকাতাকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিল বেঙ্গালুরু অধিনায়ক রজত পাতিদার। প্রথমে ব্যাট করে চার উইকেটে ১৯২ রান তুলেছিল কেকেআর। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৫ বল বাকি থাকতেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বেঙ্গালুরু। তবে এর পিছনে সব থেকে বড় ভূমিকা নেন স্বয়ং বিরাট কোহলি। এদিন বৃষ্টির জন্য প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় দেরিতে খেলা শুরু হলেও পুরো ওভারই খেলা হয়।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি কলকাতার। দুই ওপেনার অজিঙ্ক রাহানে ও ফিন অ্যালেন শক্ত ভিত তৈরি করে দিতে পারেনি। রাহানে ১৯ ও অ্যালেন ১৮ রান করে আউট হয়ে যান। ৪৮ রানে ২ উইকেট থেকে কলকাতার রানকে ১০০-র গন্ডি পেরিয়ে যেতে সাহায্য করেন অঙ্গকৃশ রঘুবংশী, ক্যামেরন গ্রিন ও রিঙ্কু সিং। ৪৬ বলে ৭১ রানের ইনিংস খেলেন অঙ্গকৃশ। এই মরসুমে ব্যাট হাতে দলকে ভরসা দিচ্ছেন তিনি। এদিন ৩২ রান করেন গ্রিন। রিঙ্কু ৪৯ রান করে অপরাজিত থাকেন। ২০ ওভারে ১৯২-৪-এ থামে কলকাতা। টি২০-র জন্য নেহাৎই কম রান নয়। তবে ফল বলছে, তা যথেষ্ট ছিল না জয়ের জন্য।
বেঙ্গালুরুর হয়ে একটি করে উইকেট নেন ভুবনেশ্বর কুমার, জোশ হেজেলউড ও রাসিখ সালাম। এর পর বাকি কাজটি করে দেন বিরাট কোহলি। বাকিদের দায়িত্ব ছিল তাঁকে সুবিধে মতো সাহায্য করে যাওয়া। ওপেনার জেকব বেথেল ১৫ রান করে আউট হয়ে গেলেও তার প্রভাব দলের রান তাড়ায় পড়তে দেননি বিরাট কোহলি। ওপেনার কোহলি একদিকে এতটাই শক্ত প্রাচীর তৈরি করেন যাতে উল্টোদিকের যাতায়াতের প্রভাব দলের রানে পড়েনি। দলের ১৯৪ রানের মধ্যে ১০৫ রানই আসে তাঁর ব্যাট থেকে। ম্যাচ জিতিয়ে অপরাজিত থেকেই মাঠ ছাড়েন তিনি।
এছাড়া দেবদূত পাড়িক্কল ৩৯, রজত পাতিদার ১১, টিম দাভিদ ২ রান করে প্যাভেলিয়নে ফিরে যান। ৮ রানে অপরাজিত থাকেন জিতেশ শর্মা। ১৯.১ ওভারে ১৯৪-৪ রান করে ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতেই মাঠ ছাড়ে বেঙ্গালুরু। কেকেআর-এর হয়ে এদিন বল হাতে সফল কার্তিক ত্যাগী। একাই নেন ৩ উইকেট। আর একটি উইকেট তুলে নেন সুনীল নারিন। ম্যাচের সেরা স্বাভাবিকভাবেই বিরাট কোহলি।ম্যাচে দু’টি ক্যাচ ছেড়েছে কেকেআর। কোহলির ক্যাচ ছেড়েছেন রভম্যান পাওয়েল। দেবদত্ত পড়িক্কলের সহজ ক্যাচ ফস্কেছেন বৈভব অরোরা। তখন দু’জনের রানই অনেক কম ছিল। সেই কোহলি শতরান করেছেন। কোহলির ক্যাচ মিস্ কেকেআরের হারের সবচেয়ে বড় কারণ। খেলা শেষে এই দুই ক্যাচ পড়াকেই দায়ী করেছেন রাহানে।
খেলা শেষে কেকেআর অধিনায়ক জানিয়েছেন, কোহলির ক্যাচ ছাড়লে ম্যাচ জেতা যায় না। রাহানে বলেন, “বিরাট ভয়ঙ্কর ব্যাটার। বিশেষ করে রান তাড়া করার সময়। পড়িক্কলও বেশ ভাল খেলছিল। গত কয়েকটা ম্যাচে আমরা ভাল ক্যাচ ধরছিলাম। কিন্তু এই ম্যাচে দুটো ক্যাচ পড়ল। তার মধ্যে একটা বিরাটের। এই ভুল করলে জেতা যায় না।” রাহানের কথা থেকে পরিষ্কার, যদি ক্যাচ দু’টি না পড়ত, তা হলে ম্যাচের ফল কেকেআরের পক্ষে যেতে পারত। অর্থাৎ, পাওয়েল ও বৈভবের নাম না করলেও তাঁদেরই হারের জন্য দায়ী করেছেন অধিনায়ক। যদিও তার পরেই রাহানে বলেন, “সকলে খুব পরিশ্রম করছে। ক্যাচ পড়তেই পারে। তবে আমাদের আরও সতর্ক হতে হবে।”