ওঙ্কার ডেস্ক : বিহারে ভোটার তালিকা পুনর্নিরীক্ষণ (Special Intensive Revision বা SIR) নিয়ে বিরোধী দলগুলির তীব্র বিক্ষোভে ফের দিনের পুরো কাজ স্থগিত হল রাজ্যসভায়। টানা তৃতীয় দিনের মতো শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাতের জেরে কার্যত অচল হয়ে রইল সংসদ।
২২ জুলাই, বাদল অধিবেশনের তৃত্বীয় দিনে অর্থাৎ মঙ্গলবার দুপুর ২টোর পরে সভা শুরু হলে সভাপতিত্বে ছিলেন ভূবনেশ্বর কলিতা। তিনি ডিএমকের মোহাম্মদ এম. আব্দুল্লাহ এবং ওয়াইএসআর কংগ্রেসের আল্লা অয়োধ্যা রামি রেড্ডিকে পণ্য পরিবহন যা ‘সামুদ্রিক বিল ২০২৫’ এর আওতায় আসে তা নিয়ে বক্তব্য রাখতে আহ্বান জানান। কিন্তু এর মধ্যেই তুমুল হট্টগোলে ফেটে পড়েন বিরোধী সাংসদরা। একের পর এক স্লোগান ওঠে “ভোট চুরি বন্ধ করো”, “ভোট চুরি নয় চলবে না”, “তানাশাহি নয় চলবে না”। তাদের অভিযোগ, বিহার ভোটের আগে ভোটার তালিকা ইচ্ছাকৃতভাবে বদলে শাসক শিবির ভোট কারচুপির করতে চাইছে।
কলিতা বিরোধী সাংসদদের শান্ত থাকতে অনুরোধ করলেও বিক্ষোভের শব্দে তার কথা কার্যত চাপা পড়ে যায়। তিনি এআইএডিএমকে এর এম. থাম্বিদুরাইকে বক্তব্য রাখতে বলেন, কিন্তু বিরোধী শিবিরের দাবিতে জোরালো স্লোগান ওঠে যে, আগে বিরোধী নেতা কে কথা বলার সুযোগ দিতে হবে। সভাজুড়ে এসআইআর তুলে নেওয়ার স্লোগান ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধীদের অভিযোগ, এই বিশেষ পুনর্নিরীক্ষার নামে সংখ্যালঘু ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে কলিতা জানিয়ে দেন, বৃহস্পতিবার তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করবেন। এরপরই দুপুরের অধিবেশন মুলতুবি ঘোষণা করে রাজ্যসভা স্থগিত করা হয় আগামী ২৪ জুলাই সকাল ১১টা পর্যন্ত। এই নিয়ে টানা তিনদিন কার্যত অচল সংসদ। INDIA জোট একাধিক ইস্যুতে সরকারের জবাবদিহি দাবি করছে। যার মধ্যে রয়েছে উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখরের পদত্যাগের দাবি ও সাম্প্রতিক ভারতীয় সেনার সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিন্দুর’ এর স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা।
সংসদের বাইরেও বিক্ষোভ ক্রমশ তীব্র হইয়ে উঠেছে। রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদবের মতো শীর্ষ নেতারা সংসদ চত্বরে ধর্নায় বসেছেন। তাদের অভিযোগ, বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যত গণতন্ত্রের হত্যা হিসাবেই ধরা হবে।কেন্দ্র সরকার এ বিষয়ে কোনোরকম আলোচনায় বসতে রাজি না থাকলেও বিরোধী দলগুলি তাদের নিজেদের অবস্থানে অনড়।তাদের দাবি বিহারে এসআইআর না তুললে এবং অপারেশন সিঁন্দুর নিয়ে যথাযথ স্বচ্ছতা না এলে আন্দোলন চলবেই। এই অচলাবস্থার জেরে বাদল অধিবেশনের কার্যকারিতা নিয়ে বড়সড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বাড়ছে রাজনৈতিক টানাপোড়েনও।
