নয়াদিল্লি: প্রথাগত আইনি ভাষা সরিয়ে রায়ের কপিতে নাবালিকা নির্যাতিতাকে সরাসরি চিঠি লিখলেন বিচারক। দিল্লির রোহিণী আদালতের বিচারক রজনী রাঙ্গা ধর্ষণে অভিযুক্তকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি নির্যাতিতার উদ্দেশে লিখলেন এক আবেগঘন অভয়বার্তা।
মামলায় অভিযুক্তকে ‘কাকা’ বলে ডাকত ওই নাবালিকা। আদালতে তার একটাই আর্জি ছিল, কাকা যেন বৃদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত জেলেই থাকে। নির্যাতিতার সেই কথা মন দিয়ে শুনেছেন বিচারক। রায়ের একটি অংশ তাই তিনি লিখেছেন একেবারে শিশুর বোধগম্য ভাষায়, যাতে নাবালিকা নিজে পড়ে বুঝতে পারে।
রায়ে বিচারক লিখেছেন, “তুমি এই আদালতের দেখা সবচেয়ে সাহসী ছোট্ট মেয়ে। তুমি আদালতে এসে যে তোমার ক্ষতি করেছে, তার দিকে আঙুল তুলেছ, সত্যি কথা বলেছ। যাকে তুমি কাকা বলে ডাকতে, সে তোমার সঙ্গে খুব খারাপ কাজ করেছিল। কিন্তু তুমি চুপ করে থাকোনি, মাকে সব জানিয়েছ। তোমার সাহসের জন্যই ওই লোকটা আর কোনওদিন কোনও শিশুর ক্ষতি করতে পারবে না।”
এরপরই নির্যাতিতাকে আশ্বস্ত করে বিচারক লেখেন, “যে লোকটা তোমাকে কষ্ট দিয়েছে, সে আর কখনও মুক্ত হয়ে ঘুরে বেড়াতে পারবে না। বাকি জীবন তাকে জেলেই থাকতে হবে। জেলেই সে বৃদ্ধ হবে, জেলেই মারা যাবে। সে আর কখনও তোমাকে, তোমার বোনকে বা অন্য কোনও শিশুকে কষ্ট দিতে পারবে না। সে আর কখনও জেলের বাইরে থেকে সূর্যের মুখ দেখবে না। তোমার আবেদন মঞ্জুর হল।”
বিচারক আরও লেখেন, “তোমার শৈশব আদালত ফিরিয়ে দিতে পারবে না, কিন্তু এটুকু কথা দিতে পারে। এবার তুমি নিজের মতো জীবন কাটাও। স্কুলে যাও। বন্ধু বানাও। হাসো। খেলো। স্বপ্ন দেখো। এই আদালত তোমার সাহসকে চিরকাল মনে রাখবে।” এই ব্যতিক্রমী রায়ের পর দিল্লি হাই কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, নিম্ন আদালতের এই বার্তা যেন নির্যাতিতা নাবালিকা এবং তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। উত্তর-পশ্চিম দিল্লির জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেছে হাই কোর্ট।