নিজস্ব সংবাদদাতা : সিবিআই-র ডিরেক্টরের সঙ্গে কথা বলে সবেই দিল্লি থেকে ফিরে হতাশার কথা জানিয়েছিলেন অভয়ার বাবা মা। সিবিআইকে ‘বোগাস’ বলতেও দ্বিধা করেননি। এবার একই সুর পাওয়া গেল বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে বিজেপি নেতার মন্তব্যে জল্পনা শুরু হয়েছে। আর জি কর কাণ্ডের একবছর পার, অথচ সুবিচার পেল না অভয়া। এক বছরের তিক্ততা নিয়ে ফের পথে জুনিয়ার ডাক্তারদের একাংশ। তাঁদের আন্দোলনে পথে নামলেন অভয়ার বাবা মা। এই আন্দোলনে তৃণমূল বাদে সবাইকে আহ্বান জানিয়েছিলেন তাঁরা। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে বিজেপি এই আন্দোলনে সামিল হয়। বিরোধী দলনেতা যোগ দেন নবান্ন অভিযানে।
এদিন এই পরিস্থিতিতে দিলীপ ঘোষ বলেন, “যখন এমন জঘন্য অপরাধে সুবিচার মিলবে না, তখন স্বাভাবিকভাবেই সংশ্লিষ্ট সবপক্ষকে ঘিরে প্রশ্ন উঠবে। আদালতের মাধ্যমে নতুন করে নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু হওয়া উচিত। অনেক তথ্য উপেক্ষিত হয়েছে। যারা তদন্ত করেছে, তাদের বাদ দিয়ে নতুন তদন্তকারী সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত।”
নবান্ন অভিযান নিয়েও তিনি মুখ খোলেন। বলেন, “নির্যাতিতার বাবা-মা এখনও বিচার পাননি। সাধারণ মানুষের বিশ্বাস এই মামলায় সুবিচার হয়নি বলেই তারা রাস্তায় নেমেছেন। কিন্তু শাসকদল এই ঘটনা চেপে দিতে চায়। সরকার এই আন্দোলনকে ভয় পাচ্ছে বলে এত কড়াকড়ি। এই আন্দোলন এখন আর কোনও রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটা জনআন্দোলনে রূপ নিয়েছে। কতজন মানুষ রাস্তায় নামবেন, তা আন্দাজ করতে পারছে না সরকার। তাই ভয়ের মধ্যে রয়েছে তৃণমূল সরকার।”
গত বছরের ৮ আগস্ট আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে ঘটেছিল সেই নারকীয় ঘটনা নাইট শিফটে গিয়ে আর বাড়ি ফেরা হয়নি আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের। হাসপাতালের সেমিনার হল থেকে উদ্ধার করা হয় তাঁর নিথর দেহ। ময়না তদন্তে জানা যায়, তরুণীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তে রাজ্য জুড়ে দেখা দেয় জনজাগরণ। তুমুল প্রতিবাদে ফেটে পড়ে বাংলা। তার রেশ গিয়ে পড়ে দেশে, বিদেশে। তদন্তের ভার পড়ে সিবিআই-এর উপর। তারপর সঞ্জয় রায়কে মূল অপরাধী সাব্যস্ত করা ছাড়া এতবড় একটি অপরাধের কার্যত আর কোনো সুহারা হয়নি। তারই জেরে সিবিআই-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। দিল্লিতে গিয়ে সিবি আই ডিরেক্টরের সঙ্গে কথা বলেও চরম হতাশ হন নির্যাতিতার বাবা মা।
