ওঙ্কার ডেস্ক: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের মহিলা চিকিৎসক-ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার এক বছর পূর্তি ঘিরে উত্তাল হতে চলেছে কলকাতা। আগামী ৯ অগস্ট, শনিবার শহরের বিভিন্ন প্রান্তে মিছিল, বিক্ষোভ ও সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। নবান্ন অভিযানের মূল আহ্বান জানিয়েছেন নির্যাতিতার বাবা-মা, যাদের পাশে দাঁড়িয়েছে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। একইসঙ্গে চিকিৎসক সমাজের একাংশ আলাদা করে কালীঘাট অভিযানের ডাক দিয়েছেন।
শনিবারের নবান্ন অভিযানে যোগ দিতে নদিয়ার পলাশী স্টেশন থেকে সিপিএম সমর্থকদের সঙ্গে কলকাতায় রওনা দেন তামান্নার বাবা-মা। তামান্না, কালীগঞ্জের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী, যিনি উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার পর তৃণমূলের বিজয় উল্লাস চলাকালীন বোমাবাজির ঘটনায় প্রাণ হারান। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনায় অভিযুক্তদের অধিকাংশ এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। তামান্নার মা জানান, মেয়ের হত্যার ন্যায়বিচার পেতে তিনি নির্যাতিতার বাবা-মায়ের সঙ্গে একসাথে নবান্ন অভিযানে হাঁটবেন।
তামান্নার মৃত্যুর ঘটনার সূত্রপাত ২৩ জুনের কালীগঞ্জ উপনির্বাচনের পর। প্রাক্তন বিধায়ক নাসিরুদ্দিন আহমেদের মৃত্যুর পর তাঁর মেয়ে আলিফাকে তৃণমূল প্রার্থী করে। ভোটের ফল ঘোষণার দিন তৃণমূলের জয়ের পর বিজয় মিছিল থেকে সিপিএম কর্মীদের বাড়ির দিকে সকেট বোমা ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। সেই বোমার আঘাতেই প্রাণ যায় ছোট্ট তামান্নার।
অন্যদিকে, হাওড়া সিটি পুলিশ ইতিমধ্যেই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের আহ্বান জানিয়েছে। পুলিশ মাইকিং করে জানাচ্ছে কোনওভাবেই ব্যারিকেড অতিক্রম করা যাবে না এবং আদালতের নির্দেশ মেনে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে হবে। নির্দেশ অমান্য করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
দুই মেয়ের মৃত্যুর ন্যায়বিচারের দাবিতে, ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ ও সংগঠনের মানুষ একসঙ্গে রাস্তায় নেমেছে। শনিবারের আন্দোলন ঘিরে তাই নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক আবহ দুই দিকেই তীব্র নজর।
