নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগণা :
বাংলার ঝুলিতে এবার আরও এক নতুন স্বীকৃতি। গোবিন্দভোগ ও তুলাইপাঞ্জির পর এবার রাষ্ট্রপুঞ্জের হেরিটেজ স্বীকৃতি পেল দক্ষিণ ২৪ পরগনার কনকচূড় চাল। এই স্বীকৃতিতে খুশির হাওয়া বইছে কৃষক থেকে মোয়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার জয়নগর, ময়দা, নিমপীঠ, রায়দিঘি, কুলপি, মন্দিরবাজার, কুলতলি ও কাশীনগর এলাকায় প্রচুর পরিমাণে কনকচূড় ধানের চাষ হয়। চালের চেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় এই ধান থেকে তৈরি খই। বিশ্ববিখ্যাত জয়নগর-এর মোয়ার প্রধান উপাদানই হল কনকচূড় ধানের খই। এই ধানের সুবাসই জয়নগরের মোয়াকে বিশেষ পরিচিতি দিয়েছে দেশ-বিদেশে। মোয়ার বাজারে কনকচূড়ের চাহিদা থাকলেও অন্যান্য ক্ষেত্রে এই ধানের ব্যবহার কম। অনেক ক্ষেত্রেই মোয়া তৈরিতে খাঁটি কনকচূড়ের বদলে অন্য খই ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। তাছাড়া এই ধান চাষের জন্য উঁচু জমি প্রয়োজন, যেখানে অধিকাংশ ধান চাষ হয় নিচু জমিতে। ফলে অনেক কৃষক বড় জমিতে অন্যান্য ধান চাষ করে অল্প অংশে কনকচূড় চাষ করেন। ব্যবসায়ী গণেশ দাস বলেন এটা জয়নগরের মানুষের কাছে বিশেষ পাওনা । মোয়ার সাথে সাথে এবারে কনকচুর ধানের উপর রাষ্ট্রপুঞ্জের হেরিটেজ তকমা এর ফলে জয়নগরের মোয়া আরও বেশি পরিচিত পাবে বিদেশে।
চাষি ও ব্যবসায়ী মহলের দাবি, জয়নগরের মোয়ার মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পণ্যের সঙ্গে যুক্ত এই ধানের চাষ ও বিপণনে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো হোক। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আগামী দিনে জয়নগরের মোয়া শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সকলের জন্যই সুফল বয়ে আনবে।
তবে বর্তমানে নিমপীঠ রামকৃষ্ণ আশ্রম কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র-এর উদ্যোগে নিমপীঠসহ একাধিক এলাকায় জৈব উপায়ে কনকচূড় ধানের চাষ হচ্ছে। কৃষি বিশেষজ্ঞ ড. সোমনাথ সরদার জানিয়েছেন, এ বছর জৈব পদ্ধতিতে ভালো ফলন হয়েছে এবং কৃষকেরা উৎসাহ দেখাচ্ছেন।
ময়দা এলাকার কৃষক সুশান্ত মণ্ডল ও ইলিয়াস মোল্লার বক্তব্য, কনকচূড়ের দাম ভালো পাওয়া যায় ঠিকই, তবে বেশি জমিতে চাষ করলে লাভের পরিমাণ খুব বেশি নয়। তাই অন্য ধানের সঙ্গে সীমিত জমিতেই এই চাষ করেন তাঁরা।
