বিপ্লব দাশ : আর মাত্র কয়েক মাস বাদেই রাজ্যে ভোট। তৃণমূলকে উৎখাত করতে এর মধ্যেই বিজেপি মাঠে নেমে পড়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে কি গেরুয়া শিবিরের উপর আস্থা রাখতে পারছে না আর এস এস ? সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভাগবতও কী ধরে ফেলেছেন বাংলার নাড়ি ! তাই কি বাঙালি হেনস্থা ইস্যুতে বিজেপির হাল ফেরাতে ঘুর পথে মাঠে নামলো সঙ্ঘ পরিবার ? দিল্লিতে আর এস এসের “শতবর্ষ যাত্রা”-র প্রথম সম্মেলনেই সমাজ গঠন ও নেতৃত্বের প্রশ্নে সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভাগবত টেনে আনলেন রবীন্দ্রনাথকে। তাঁর ‘স্বদেশী সমাজ’ রচনাকে তুলে ধরে মোহন ভাগবত স্পষ্ট ভাবে জানালেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের ভাবধারা অনুসরণ করা প্রয়োজন।
বিশেষত বিজেপি সম্পর্কে রাজ্যে ক্ষমতাসীন দল যে ভাবে বাঙালি বিদ্বেষী প্রচারে নেমেছে, তাতে পালাবদলের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটা ভীতির আবহ তৈরি হতে চলেছে বাংলার জনমানসে। নরেন্দ্র মোদী নিজেও এ কারণে রাম নাম ছেড়ে ‘কালী, করুণাময়ী, দক্ষিণেশ্বর, দুর্গা’ বলছেন। ভাষণের মধ্যে বাংলায়ও দু চার কথা বলছেন, রবীন্দ্রনাথের কবিতা আওড়াচ্ছেন। কিন্তু বিগত অভিজ্ঞতা থেকে বোধ হয় এতেও ভরসা রাখতে পারছে না আর এস এস। তাই দিল্লির মঞ্চ থেকে বিজেপি সম্পর্কে কি বাঙালির মন থেকে ভীতি কাটাতে রবীন্দ্রনাথকেই মহৌষোধি হিসেবে প্রয়োগ করতে চাইছেন ?
সমাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে শুধু রবীন্দ্রনাথের লেখাই নয়, তাঁর আধ্যাত্মবাদী আদর্শককে তুলে ধরতে চেয়েছেন মোহন ভাগবত। হিন্দুত্ববাদের প্রশ্নে তুলে ধরেছেন ভারতের সনাতন সংস্কৃতি ও শাস্ত্রকে। ১৯২৫ সালে বিজয়া দশমীর পর আর এস এসের সূচনা করেছিলেন হেডগাওয়ার। হেডগাওয়ারের কথা বলতে গিয়ে তিনি টেনে আনলেন সঙ্ঘ জনকের কলকাতার অধ্যায়। কী ভাবে এখানে ডাক্তারি পড়তে এসে অনুশীলন সমিতির সঙ্গে জড়িয়েছিলেন, কী ভাবে জড়িয়েছিলেন স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে, ইত্যাদি ইত্যাদি। আরও বললেন, ‘হিন্দু তাঁরাই, যাঁরা নিজেদের পথকে বিশ্বাসের সঙ্গে অন্য ধর্মালম্বীদের পথকে সম্মান করে’। কারণ হিসেবেও সেই রবীন্দ্রনাথের ভাবধারা। তথাকথিত হিন্দুত্ব নয়, আধ্যাত্মবাদ। তবে বাঙালি ইস্যুতে তৃণমূলনেত্রী আর সঙ্ঘ প্রধানের পার্থক্য এরকমই- দুধ আর জলের মতো। অস্তিত্ত্বের ক্ষেত্রে দুটোরই প্রয়োজন শুধু উপাদান আলাদা।
