ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, রাশিয়ার তেল আমদানির প্রশ্নে ভারতকে অযথাই নিশানা করছে ট্রাম্প প্রশাসন, অথচ বিশ্বের বৃহত্তম রাশিয়ান তেল আমদানিকারক দেশ চিনের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর ফলে ভারত মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তাঁরা।
ডেমোক্র্যাট সদস্যদের বক্তব্য, ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক শুধু ভারতকেই নয়, আমেরিকার সাধারণ নাগরিকদেরও ক্ষতি করছে। দুই দশকের দীর্ঘ দ্বিপাক্ষিক প্রচেষ্টায় যে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, তা কার্যত ভেঙে দেওয়ার পথে হাঁটছে হোয়াইট হাউস। তাঁদের কটাক্ষ, “এটা যেন ইউক্রেনের যুদ্ধ নিয়ে একেবারেই নয়, এর নেপথ্যে অন্য কিছু উদ্দেশ্য লুকিয়ে রয়েছে।”
একই সঙ্গে নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি ট্রাম্প প্রশাসন সত্যিই রাশিয়ার তেল আমদানিকারী সব দেশের বিরুদ্ধে একই নিয়মে নিষেধাজ্ঞা জারি করত, তা হলে যুক্তি খুঁজে পাওয়া যেত। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, শুধুমাত্র ভারতকেই শাস্তির মুখে ফেলা হচ্ছে। বিপরীতে চিন এখনও ছাড়মূল্যে রাশিয়ার তেল কিনে চলেছে, অথচ তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এরই মধ্যেই ২৭ আগস্ট কার্যকর ওয়াশিংটনের চাপানো জরিমানা। রাশিয়ার সঙ্গে তৈল বানিজ্য করবার জেরে চালু হয়েছে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক। এর ফলে চলতি মাসের শুরুতে জারি হওয়া আগের ২৫ শতাংশ শুল্কের সঙ্গে মোট ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক কার্যকর হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার অনুমান করছে, এই নতুন শুল্কভার প্রায় ৪৮.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রফতানিতে ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলবে। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রকের আশঙ্কা, শুল্কের বোঝা রফতানিকে কার্যত অচল করে তুলতে পারে, যার ফলে কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রশাসন কিছু খাতকে আপাতত ছাড় দিয়েছে। ওষুধশিল্প ও ইলেকট্রনিক্স খাতে অতিরিক্ত শুল্ক না বসানোয় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে ভারতের, কারণ এই খাতগুলিতে ভারতের রফতানির পরিমাণ বিপুল।
নয়া দিল্লি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের কোনো রকম শুল্ক চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না ভারতীয় বানিজ্য। প্রধানমন্ত্রী মোদী ঘোষণা করেছেন, দেশের বাণিজ্য ও জ্বালানি নীতি কোনও বাইরের চাপের জন্য বদলাবে না। একাধিকবার ট্রাম্প শিবিরের হুমকির মুখে পড়েও রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করেনি ভারত।
গত কয়েক বছরে ভারত-মার্কিন বাণিজ্যিক সম্পর্ক চর্চায় রয়েছে। কিন্তু ভারতীয় বাজারে মার্কিন রাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার ও রাজনৈতিক চাপ নিয়ে টানাপোড়েন থেকেই যাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে প্রথম দিকেই ভারত বাণিজ্য আলোচনার পথে হাঁটলেও এখন পর্যন্ত কোনও চুড়ান্ত চুক্তি হয়নি। কারণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বারবার ভারতের কৃষি ও দুগ্ধশিল্পে আরও বড় প্রবেশাধিকারের দাবি জানাচ্ছে কিন্তু ভারত বরাবরই নিজের জায়গায় স্থির। ফলে, দুই দেশের সম্পর্ক বর্তমানে সূক্ষ্ম এক ভারসাম্যের মধ্যে দাঁড়িয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক দ্বন্দ্ব সাময়িক হলেও, এর রাজনৈতিক প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।