ওঙ্কার ডেস্ক: বৃহস্পতিবার রাশিয়া ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে শান্তি আলোচনার জন্য মস্কোতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। ক্রেমলিন জানিয়েছে যে প্রায় চার বছরের এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এই আলোচনায় বসতে চায় দুই দেশ। এই আমন্ত্রণের প্রসঙ্গে এখনও পর্যন্ত কোনো সরকারী বিবৃতি জারি করেনি ইউক্রেন। অন্যদিকে রাশিয়া ইউক্রেনের মধ্যকার এক সপ্তাহ যাবৎ যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব নিয়ে সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের টানা সংঘাতের মধ্যেই নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতার ইঙ্গিত দিয়েছ মস্কো। ক্রেমলিন সূত্রে জানানো হয়েছে, সরাসরি শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমেই যুদ্ধের সমাধান খোঁজা সম্ভব এবং সেই কারণেই মস্কোতেই আলোচনার আয়োজন করতে আগ্রহী রুশ নেতৃত্ব। রাশিয়ার তরফে জেলেনস্কির নিরাপত্তার পূর্ণ নিশ্চয়তাও দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
রাশিয়ার বক্তব্য, দীর্ঘদিনের সংঘাতে দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস বাড়লেও মুখোমুখি বৈঠক হলে যুদ্ধবিরতির পথ সুগম হতে পারে। তাই আনুষ্ঠানিকভাবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কিয়েভের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবে কোনো চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। কূটনৈতিক মহলের মতে, যুদ্ধ চলাকালীন শত্রু দেশের রাজধানীতে গিয়ে আলোচনায় বসা ইউক্রেনের পক্ষে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তার দিক থেকে জটিল সিদ্ধান্ত।
এর আগে জেলেনস্কি একাধিকবার জানিয়েছেন, শান্তি আলোচনার জন্য নিরপেক্ষ কোনো দেশ বা আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে বৈঠক হওয়াই বেশি গ্রহণযোগ্য। ইউক্রেনের দাবি, তাদের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা বজায় রাখার নিশ্চয়তা ছাড়া কোনো আলোচনাই ফলপ্রসূ হবে না। অন্যদিকে রাশিয়া যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনায় বসতে চাইছে। ফলে দুই পক্ষের মূল দাবির মধ্যে এখনও বিস্তর ফারাক রয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে, এই আমন্ত্রণ কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তবে শান্তি প্রক্রিয়া শুরু হওয়া নির্ভর করবে পারস্পরিক আস্থা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি ক্রমশ বাড়ছে, তাই সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনাকে অনেকেই ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবে মস্কোতে বৈঠক আদৌ হবে কি না এবং হলে তা থেকে কোনো সমাধান মিলবে কি না, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি।
