ওঙ্কার ডেস্ক: রাশিয়ার উপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করল আমেরিকা। এবার নিশানায় দেশটির দুটি বৃহৎ তেল শোধন সংস্থা, ‘রসনেফট’ ও ‘লুকঅইল’। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ইউক্রেনের সঙ্গে চলা যুদ্ধে এই সংস্থাগুলির মাধ্যমে অর্জিত বিপুল অর্থ ব্যবহার করছে রাশিয়া। তাই যুদ্ধের অর্থনৈতিক জোগান রুখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে মার্কিন অর্থ দফতরের বিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর -এর তরফে।
এই ঘোষণা ঘিরে ফের একবার সরব হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পুতিনের সঙ্গে আলোচনা ভালভাবে হয় ঠিকই, কিন্তু কোথাও পৌঁছয় না।” তাঁর কথায়, একাধিকবার আলোচনা চললেও বাস্তব ক্ষেত্রে তাতে কোনও ফলাফল মেলেনি। রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন বন্ধ না করা পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না বলেও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, যুদ্ধের শুরু থেকেই রাশিয়ার জ্বালানি খাত দেশটির অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখছে। তেল রপ্তানি থেকে অর্জিত বিপুল রাজস্ব যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অন্যতম উৎস। তাই ওই রাজস্বের উৎসকে আটকাতেই রসনেফট ও লুকঅইলের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও সংস্থাগুলির ওপর চাপ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ রাশিয়ার অর্থনীতির উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এর প্রভাব পড়বে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। রাশিয়ার তেল রপ্তানি কমে গেলে সরবরাহে টান পড়বে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়াতে পারে। একইসঙ্গে, রাশিয়া-আমেরিকা কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে উঠবে বলেই ধারণা।
ট্রাম্পের কথায়, যদি রাশিয়া যুদ্ধবিরতির পথে আসে বা ইউক্রেনে সামরিক অভিযান বন্ধ করে, তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে আপাতত সেই সম্ভাবনা দূরবর্তী বলেই মনে করছে ওয়াশিংটন। ইউক্রেন যুদ্ধের দুই বছরের বেশি সময় পরও সংঘাত কমার বদলে ক্রমশ জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি। এই অবস্থায় নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার উপর আরও আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
