ওঙ্কার ডেস্ক: জোহরান মামদানির অ্যামেরিকায় ফের ভারতীয় বংশদ্ভূত রাজনৈতিক নেতার নাম চর্চায়। এবার মার্কিন কংগ্রেসের নয়া মুখ হতে চলেছে সৈকত চক্রবর্তী। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী এবং টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থে জন্মানো সৈকত দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। তবে এবার তাঁর লক্ষ্য আরও বড়, সান ফ্রান্সিসকোর কংগ্রেস আসন, যা বহু বছর ধরে দখল করে রেখেছেন ডেমোক্র্যাট দলের প্রবীণ নেত্রী ন্যান্সি পেলোসি।
সম্প্রতি পেলোসি ঘোষণা করেছেন, তিনি আর পুনর্নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। কংগ্রেসের এই আসনটি নতুন প্রজন্মের প্রগতিশীল রাজনীতিকদের জন্য উন্মুক্ত করে রেখেছে রাজনৈতিক দল। ন্যান্সি পেলোসির দীর্ঘ নেতৃত্বের পর এবার সেই আসনে এক তরুণ ভারতীয়-মার্কিন প্রার্থী নামায় মার্কিন রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা তুঙ্গে।
প্রযুক্তি জগতের সঙ্গে রাজনীতির সংযোগ ঘটিয়েই নিজের পথ তৈরি করেছেন সৈকত চক্রবর্তী। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে ডিগ্রি অর্জনের পর স্ট্রাইপের মতো সফল টেক সংস্থায় ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। পরে প্রযুক্তি জগত ছেড়ে রাজনৈতিক সংগঠনে যোগ দেন। ‘জাস্টিস ডেমোক্র্যাটস’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রগতিশীল রাজনীতির নতুন ধারা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তিনি। ২০১৮ সালে আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজের ঐতিহাসিক জয়ের পর তিনি তাঁর মুখ্য সহকারী বা ‘চিফ অফ স্টাফ’ হিসেবে কাজ করেন। তারপর থেকেই সৈকত মার্কিন মুলুকের রাজনীতিতে আলোচনায় উঠে এসেছে।
সান ফ্রান্সিসকোর কংগ্রেস আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়ে সৈকত চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ডেমোক্র্যাট দলে এখন প্রয়োজন নতুন নেতৃত্ব ও মৌলিক সংস্কার। তাঁর প্রচারাভিযান মূলত প্রগতিশীল নীতির ওপর ভিত্তি করে কর সংস্কার, সমাজে আর্থিক বৈষম্য কমানো, এবং রাজনীতিকে সাধারণ মানুষের আরও কাছে নিয়ে যাওয়া। তিনি বলেছেন, “নিজেকেও কর দিতে আমি প্রস্তুত, কারণ ন্যায়সংগত সমাজ গড়ার জন্য সবাইকে অংশ নিতে হবে।”
২০১৯ সালে সৈকত চক্রবর্তী এক রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। সৈকত চক্রবর্তীকে স্বাধীনতা সংগ্রামী সুভাষ চন্দ্র বসুর ছবিযুক্ত একটি জামা পরে থাকতে দেখা যায়। সেই ছবি নিয়ে মার্কিন মুলুকের কিছু ডানপন্থী সংবাদ মাধ্যম তাঁকে ‘নাৎসি সমর্থক’ বলে সমালোচনা করেছিল। যদিও সৈকতের জন্য নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসের ছবি সাংস্কৃতিক গর্বের নিদর্শন ছিল মাত্র।
