ওঙ্কার ডেস্ক: বিজয়া দশমীর দিন সুরুচি সংঘের দুর্গাপুজো মণ্ডপে দাঁড়িয়ে শিল্পপতি সাজ্জন জিন্দাল জানালেন, পশ্চিমবঙ্গে বড়সড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর সংস্থার। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমবার কলকাতার পুজোয় হাজির হয়েছিলেন তিনি। মণ্ডপের আবহেই জানালেন, ‘‘আমার মাথায় একাধিক পরিকল্পনা রয়েছে। মা দুর্গা আশীর্বাদ করলে সেই সব বাস্তবে রূপ পাবে। রাজ্যের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা পাচ্ছি। মুখ্যমন্ত্রীর সহায়তা আমার কাছে বড় ভরসা।’’
রাজনৈতিক ও শিল্প মহলের মতে, এমন ঘোষণা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গ দীর্ঘদিন ধরেই বড় শিল্প বিনিয়োগের প্রত্যাশায় রয়েছে। জিন্দাল গ্রুপের মতো একটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী বিনিয়োগে আগ্রহী হলে, তা রাজ্যে শিল্পায়নের পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে। তবে সবটাই নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ ও বাস্তব পরিকল্পনার উপর।
এই ঘোষণার পরেই অনেকের মনে ফিরে এসেছে সিঙ্গুরের স্মৃতি। টাটা নানো প্রকল্পকে ঘিরে কৃষিজমি অধিগ্রহণ নিয়ে বিরোধ শুরু হয়েছিল, যার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ আন্দোলনের পর টাটা মোটরস ২০০৮ সালে কারখানা গুজরাতে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। সেই ঘটনার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প বিনিয়োগের মানচিত্রে বড়সড় দাগ কেটে যায়। সমালোচকদের মতে, সেই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ফলেই বহু বছর ধরে বড় শিল্প রাজ্যে আসতে দ্বিধা করেছে। যদিও মমতার দাবি ছিল, তিনি কেবল কৃষকের অধিকার রক্ষার আন্দোলন করেছিলেন, শিল্পায়নের বিরোধিতা করেননি।
তবে সাজ্জন জিন্দালের বিনিয়োগ যদি সত্যিই বাস্তবায়িত হয়, তবে তা নিঃসন্দেহে রাজ্যের জন্য এক গেম চেঞ্জার হতে পারে। দীর্ঘদিনের শিল্পশূন্য রাজ্যে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে, অর্থনৈতিক গতি বাড়বে এবং পশ্চিমবঙ্গ পুনরায় বড় শিল্পের মানচিত্রে নিজের অবস্থান শক্ত করতে পারবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ থাকবে ভূমি, পরিকাঠামো ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে এমনভাবে সাজানো, যাতে অতীতের মতো রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কোনও বিনিয়োগের পথে বাঁধা হয়ে না দাঁড়ায়। সিঙ্গুরের ব্যর্থতা পেরিয়ে যদি জিন্দালদের মতো বড় শিল্পগোষ্ঠী এখানে সাফল্যের সঙ্গে প্রকল্প গড়ে তুলতে পারে, তবে তা শুধু পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিকেই নয়, রাজ্যের ভাবমূর্তিকেও নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।
