ওঙ্কার ডেস্ক : সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত প্রবাসী সম্প্রদায়ের কথা বলতে গিয়ে ফিল্মস্টার সলমখান বালুচিস্তান এবং পাকিস্তানকে আলাদাভাবে উল্লেখ করায় সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ আলোড়ন তুলেছেন। সৌদি আরবের রিয়াদে জয় ফোরাম ২০২৫-এ বক্তৃতা দেওয়ার সময় তিনি বলেন, “এখন যদি আপনি একটি হিন্দি ছবি বানান এবং সৌদি আরবে তা মুক্তি পায় তাহলে তা সুপারহিট হবে। যদি আপনি একটি তামিল, তেলেগু, অথবা মালয়ালি ছবি বানান, তাহলে এটি শত শত কোটি টাকা ব্যবসা করবে কারণ অন্যান্য দেশ থেকে এত মানুষ এখানে এসেছে। বালুচিস্তানের মানুষ আছে, আফগানিস্তানের মানুষ আছে, পাকিস্তানের মানুষ আছে… সবাই এখানে কাজ করছে।”
সলমনের এভাবে বালিচিস্তান এবং পাকিস্তানকে আলাদা করায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢি ঢি পড়ে যায়। প্রসঙ্গত, সলমন যখন এই বক্তৃতা দিচ্ছিলেন তখন উপস্থিত ছিলেন শাহরুখ খান এবং আমির খান সহ অন্যান্য বলিউড সুপারস্টাররাও।
এমনিতেই পাকিস্তানে বালুচ বিদ্রোহ একটি স্থায়ী সমস্যা। বেলুচিস্তানের দীর্ঘ অসন্তোষের কারনে কার্যত নাজেহাল পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব। ইদানিং যা অগ্নিগর্ভ আকার নিয়েছে। তার মধ্যে সলমন খানের মতো জনপ্রিয় অভিনেতার এই ধরণের উক্তি বালুচ বিদ্রোহীদের উৎসাহিত করলো বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। এমনি তেই মধ্যপ্রাচ্যে দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ভারতীয় সিনেমার যথেষ্ট ক্রেজ। ফলে সলমন খানের একটা বিরাট প্রভাব রয়েছে। তাই পাকিস্তানিরা মনে করছে, সলমনের ওই উক্তি বালুচ বিদ্রোহের আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছে। এই নিয়ে তাই রীতিমতো গুঞ্জন শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কেউ একে উস্কানিমূলক বলে মনে, কেউ বলছেন সলমন না জেনে এমন মন্তব্য করেছেন। যদিও, সালমান খান বা সেই সময় উপস্থিত অন্যান্য অভিনেতাদের মধ্যে কেউই এখনও এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।
এরমধ্যেই বেশ কয়েকজন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী অভিনেতাকে সমর্থন করে বলেছেন, “মন্তব্যটি আঞ্চলিক পরিচয় সম্পর্কে খানের সচেতনতা প্রকাশ করে।” তাঁদের মতে, বালুচিস্তান পাকিস্তানি প্রদেশ নয় – এটি একটি জাতি। বালুচিস্তান আমাদের পরিচয় এবং আমাদের রাষ্ট্র।”
বালুচিস্তান পাকিস্তানের বৃহত্তম প্রদেশ। এটি বেইজিংয়ের তথাকথিত “চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর”-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ চেকপয়েন্ট, যেখানে ওমান উপসাগরের কাছে রয়েছে গোয়াদর বন্দর। শুধু তাই নয়, বালুচিস্তান হল পাকিস্তানের গ্যাস উৎপাদনের অন্যতম ভান্ডার। যেখান থেকে পাকিস্তানের চল্লিশ শতাংশ গ্যাস উৎপাদন হয়। কৌশলগত গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও, এই অঞ্চলটিকে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বরাবর উপেক্ষা করে এসেছে। যার ফলে ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানে যোগদানের পর থেকেই বালুচিস্তানের স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু হয়।
বালুচ অঞ্চল তিনটি ভাগে বিভক্ত। উত্তরাঞ্চল বর্তমান আফগানিস্তানের অংশ, পশ্চিমাঞ্চল, যাকে সিস্তান-বেলুচিস্তান বলা হয়, ইরানে এবং বাকি অংশ পাকিস্তানে। বালুচিরা বিশ্বাস করেন যে তাঁরা দেশভাগের সময় পাকিস্তানের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। এই জাতি গোষ্ঠীটি পাকিস্তানের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারকারী প্রভাবশালী পাঞ্জাবি এবং সিন্ধিদের থেকে আলাদা। এর ফলে, পাকিস্তানি বাহিনী এবং বিদেশী প্রকল্পগুলিকে লক্ষ্য করে চলতি বিদ্রোহের কারণে বালুচিস্তানে এখন ভীষণ ভাবে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অথচ এর মধ্যেই রয়েছে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের আওতাধীন প্রকল্পগুলি।
