ওঙ্কার ডেস্ক: মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জের জাফরাবাদে বাবা ও ছেলেকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে কড়া সাজা ঘোষণা করল জঙ্গীপুর মহকুমা আদালত। জঙ্গিপুর মহকুমা আদালত এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যেক অভিযুক্তকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, এই বাবা ও ছেলেকে গনপিটুনি এবং কুপিয়ে খুনের ঘটনা আসলে পরিকল্পিত হামলা ও চরম নিষ্ঠুরতার মাধ্যমে এই খুন সংঘটিত হয়েছিল। অভিযোগ, হিংসাত্মক পরিস্থিতির মধ্যেই একদল লোক জাফরাবাদের বাসিন্দা হরগোবিন্দ দাস ও তাঁর ছেলে চন্দন দাসকে বাড়ি থেকে টেনে বের করে আনে। প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁদের উপর আক্রমণ চালানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সামনে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে, যা গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্তে নামে এবং বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। একের পর এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে বিপুল সংখ্যক সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান ও ফরেনসিক রিপোর্ট আদালতে পেশ করা হয়। দীর্ঘ শুনানি চলাকালীন অভিযুক্ত পক্ষ নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও, সরকারি তরফে পেশ করা প্রমাণে সন্তুষ্ট হয় আদালত। রায় ঘোষণার সময় বিচারক মন্তব্য করেন, এই হত্যাকাণ্ড সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের উপর সরাসরি আঘাত। আদালতের মতে, এমন অপরাধের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সাহস না পায়।
রায় ঘোষণার পর নিহতদের পরিবার কিছুটা স্বস্তির কথা জানালেও, তাঁদের বক্তব্য এই ক্ষতি কোনও সাজাতেই পূরণ হওয়ার নয়। অন্যদিকে, এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে রায়কে কেন্দ্র করে কোনও অশান্তি না ছড়ায়। এই মামলার রায় রাজ্যজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
