নিজস্ব সংবাদদাতা: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে আর্থিক দুর্নীতি মামলায় জামিন পেলেন প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। বিচারপ্রক্রিয়ার ধীর গতি এবং দীর্ঘদিন ধরে জেলবন্দি থাকার বিষয়টি বিবেচনা করে শুক্রবার তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এম এম সুন্দ্রেশ এবং প্রশান্ত বি বরলের বেঞ্চ।
দু’বছরের বেশি সময় ধরে জেলে রয়েছেন সন্দীপ। এই মামলায় সিবিআই চার্জশিট জমা দেওয়ার পর বিচার শুরু হলেও ১৪৭ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। এই ধীরগতির যুক্তি তুলে ধরেই সুপ্রিম কোর্টে জামিনের আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী। এর আগে কলকাতা হাই কোর্টে তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেছিলেন, সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে যুক্ত এবং অভিযুক্ত প্রভাবশালী হওয়ায় সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে পারেন। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে গত ১৮ অগস্ট সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সন্দীপ।
উল্লেখ্য, আরজি করে চিকিৎসক-ছাত্রীর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পরই আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। সেই অভিযোগে সন্দীপকে গ্রেফতার করে সিবিআই, পরে তদন্তে নামে ইডি-ও। ইডির অভিযোগ, হাসপাতালের অ্যাকাউন্ট থেকে ঠিকাদারদের মাধ্যমে বিপুল টাকা সরানো হয়েছে। যদিও ইডি এখনও পর্যন্ত সন্দীপকে হেফাজতে নেয়নি এবং চার্জশিট জমা দিয়ে দিয়েছে। এর আগে ধর্ষণ ও খুনের মামলাতেও জামিন পেয়েছিলেন তিনি।
অন্যদিকে সন্দীপের জামিনের খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নির্যাতিতার বাবা এবং আরজি কর আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসকরা। তাঁরা সিবিআই-এর ভূমিকা এবং বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।