দিদির আমও গেল ছালাও গেল
অসীম সেন
মাফ করবেন কারণ আমরা খুব একটা আপনাকে খুশি করার দায়িত্ব নিতে পারব না। মাফ করবেন কারণ সহজ কথাটা গয়না পড়িয়ে বলার অভ্যাস আমাদের নেই। মাফ করবেন কারণ সুর মিলিয়ে কথা বলার অভ্যাসটাই যে আমরা রপ্ত করতে পারিনি এখনও।
যাইহোক দিদির আপাতত আমও গেল, ছালাও গেল। সাধের ঘাসফুল এখন বিজেপি গ্লাইফোসেটের জেরে মাটি নিয়েছে। দল ভেঙে ছত্রখণ্ড। ভাবলে অবাক লাগে এই কয়েক মাস আগেও সমাজ মাধ্যমে বামেদের মহাশূন্যে বিলিন হয়ে যাওয়া নিয়ে ঘাসফুলের ছোট বড় মেঝো নেতাদের কত টিপ্পনি। গাড়ির বনেটের ওপর দাঁড়িয়ে হিন্দি সিনেমার স্টাইলে যুবরাজের সে কী ঔদ্ধত্ব। আজ মোমবাতির আলোয় বঙ্গ রাজনীতিতে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা খুঁজতে হচ্ছে।
সিপিএম নেতা গৌতম দেব এক যুগ আগে বলেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন প্যাথলজিক্যাল লায়ার। এত মিথ্যে কথা বললে সরকার ও দল চালানো সম্ভব নয়। দল ধ্বংস হয়ে যাবে। প্রশ্ন তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের সম্পত্তি এবং তাঁর আঁকা অদ্ভূত সেই ছবি বিক্রি নিয়েও। ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যও। আজ বড্ড বেশিরকম ভাবে গৌতম-বুদ্ধর কথা মনে পড়ছে। সিপিএমের পোড় খাওয়া এই দুই রাজনীতিবিদকে নস্ট্রাদামুস বলে মনে করতে ইচ্ছে করছে।
কমিশনের হস্তক্ষেপে দলের নাম এবং প্রতীক হারালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও ভোটে ভরাডুবির পর এমনিতেই তৃণমূল দলটা দেশি কাঁকড়ার হাঁড়ি হয়ে গিয়েছিল। একটা সময় কর্পোরেট কোম্পানির শেখানো বুলিতে গোটা রাজ্য বলেছিল, বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়। কিন্তু হঠাৎ করে কোথা হইতে কী হইয়া গেল কিছু বোঝা গেল না। বাংলা জুড়ে গেরুয়া সুনামি। পদ্মাসনে বসল বাংলা। যুবরাজ থেকে রাঘব বোয়াল যত ছিল, সকলের ওপর চলতে থাকল ডিম থেরাপি। দিদির সেনাপতি অধিকাংশেরই বোধদয় হল। তাঁরা হঠাৎ নতুন করে বুঝলেন, তৃণমূল দুর্নীতিপূর্ণ একটা দল। এখানে থাকা যায় না মোটে। সুতরাং রাতারাতি বাল্মিকীদের সংখ্যা বাড়তে লাগল।