ওঙ্কার ডেস্ক: পাকিস্তানকে জলের মাধ্যমে চাপে রাখতে এবার আরও এক ধাপ এগোল ভারত। সিন্ধু জলচুক্তি বাতিলের পরে জম্মু-কাশ্মীরের চন্দ্রভাগা নদীর উপর ১,৮৫৬ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সাওয়ালকোট জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। বুধবার এই প্রকল্পের জন্য অনলাইন টেন্ডার ডাকা হয়েছে, যার শেষ তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর।
১৯৬০ সালে প্রস্তাবিত এই বাঁধ অবশেষে বাস্তবায়নের পথে। নির্মাণস্থল নির্ধারিত হয়েছে রামবন জেলার সিধু গ্রামে, যা শ্রীনগর ও জম্মু দুই শহরের বিমানবন্দর থেকেই প্রায় সমদূরত্বে (১২০-১৩০ কিমি)। প্রকল্পের বিস্তারিত রিপোর্ট শেষ বার প্রস্তুত হয়েছিল ২০১৮ সালে, তবে পহলগাম জঙ্গিহানার পর কেন্দ্র ফের নতুন করে দ্রুতগতিতে এই পরিকল্পনাগুলিকে রূপায়ণে উদ্যোগী হয়েছে।
সাওয়ালকোট ছাড়াও কেন্দ্র আরও কয়েকটি বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা করেছে, ১৩২০ মেগাওয়াটের কিরঠাই ওয়ান, ১০০০ মেগাওয়াটের পাকাল ডাল, ২২২৪ মেগাওয়াটের তিনটি অতিরিক্ত প্রকল্প। এই সমস্ত প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জম্মু-কাশ্মীর একাই ১০,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে। শুধু বিদ্যুৎ নয়, উপত্যকার কৃষি, সেচ ও গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত জলও পাওয়া যাবে।
এই প্রসঙ্গেই বুধবার রাজ্যসভায় অপারেশন সিঁদুর নিয়ে আলোচনার সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, “সিন্ধু জলচুক্তি ছিল একতরফা। পাকিস্তান সব সুবিধা ভোগ করলেও ভারতের কৃষক বঞ্চিত ছিলেন। এখন ভারতের কৃষকরা সিন্ধু নদীর জলের অংশীদার হবেন”। তিনি জানান, কাশ্মীর ছাড়াও পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান এবং দিল্লির কৃষকরাও উপকৃত হবেন এই প্রকল্পে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চন্দ্রভাগা নদীর উপর সাওয়ালকোট প্রকল্প শুরু হলে পাকিস্তানের জন্য তা বড় কূটনৈতিক ও জলের চাপ তৈরি করবে। কারণ চন্দ্রভাগা (ভারতে চেনাব নামে পরিচিত) সিন্ধু চুক্তির আওতায় পড়ে যা এতদিন পাকিস্তানের জলের নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি ছিল। এই প্রকল্পগুলি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, কূটনৈতিক ভাবে পাকিস্তানের উপর ভারতীয় চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিতও বহন করছে। ভারতের বার্তা সাফ, ভারতের জল, ভারতের অধিকার।
