বিপ্লব দাশ : শুধু নিন্দা নয়, পহেলগাঁও-র মদতদাতাদের বিচারও চাইল এসসিও ! আপাতত দৃষ্টিতে যাকে নিশানা করা হল বলে মনে করা হচ্ছে, মিশাইলটা কিন্তু পড়ল আরও দূরে, আরও পশ্চিমে। কারণ, বিশ্ব রাজনীতিতে যে অক্ষশক্তি উঁকি মারতে শুরু করেছে তাতে আদিতন্ত্রের একাধিপত্য বোধ হয় এবার ফ্যাকাশে হতে চলেছে। তবে ভবিষ্যৎ কী হবে তা নিয়ে এখনই বলার সময় আসেনি। অধুনা রাজনীতিতে একটা সত্য ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত যে চিরদিন কেউ কারুর শত্রু নয়। এই তত্ত্ব মানলে আরেকটা সত্য বেরিয়ে আসে তা হল- চিরদিন কেউ কারুর মিত্রও নয়। যার সাম্প্রতিকতম উদাহরণ- ভারত ও আমেরিকা। ব্যক্তিগত ভাবে এটা নিশ্চয়ই টের পাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রীও। সবাই জানে, ট্রাম-মোদীর বন্ধুত্ব নিয়ে কতই না আড়ম্বর দেখেছে বিশ্ব।
তবে অতীত ঘেঁটে আর লাভ নেই। ট্রাম্প তো বলেই দিয়েছেন, তিনি প্রবৃত্তিতে বিশ্বাস করেন না। তাঁর যা কিছু প্রক্রিয়াকে ঘিরে। তাই মিত্রতার বাস যেহেতু প্রবৃত্তিতে, ব্যক্তিবিশেষ তা শিকেয় তুলে রাখতেই হয়। আর এখানেই স্পষ্ট হয়ে যায় দ্বিচারিতা। তা নিশ্চয়ই হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন মোদী। ঠিকে এই সময়েই এসসিওর মতো একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চ পাওয়াও একটা সুযোগ। তার যে পূর্ণ ব্যবহার করবেন নরেন্দ্র মোদী এটা অকল্পনীয় ছিল না। হলও তাই। ‘সন্ত্রাসবাদে দুমুখো নীতি বরদাস্ত করা হবে না’ এই দৃঢ় অবস্থানের কথা বলে প্রধানমন্ত্রী ভারতের পাশে টানতে পেরেছেন এসসিও গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলিকে। বলাই বাহুল্য, এর মধ্যে পাকিস্তানও রয়েছে। পাক প্রধানমন্ত্রীকে সামনে রেখে পহেলগাঁও-র জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা করলো সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন। এমন কি পহেলগাঁওর জঙ্গি হামলায় মদতকারীদের বিচার চাইল এসসিও গোষ্ঠিভুক্ত দেশগুলি। কূটনৈতিক দিক থেকে এসসিও-র ২৫ তম শীর্ষ সম্মেলনে একে ভারতের বিরাট জয় বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষত, এসসিও-র বিবৃতিতে পাকিস্তানের মুখ পুড়ল বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। পহেলগাঁও পরবর্তি প্রবাহে জল গড়িয়েছে অনেক দূর, এবার কি বাঁধের নিয়ন্ত্রণ পেল ভারত ?
