নিজস্ব প্রতিনিধি : যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিবাদ কর্মসূচির আগে কার্যত দুর্গের আকার নিয়েছে দিল্লি। পুলিশ এই জমায়েতের অনুমতি দেয়নি। জুলাইয়ের স্মৃতি মাথায় রেখে রাজধানী জুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে ৪০ হাজারের বেশি নিরাপত্তারক্ষী। দিল্লিমুখী সমস্ত ট্রেন বন্ধ। বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা। সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে অডিও রেকর্ডিং সুবিধাসহ ৩০০টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা। এমনকি, দিল্লির বিভিন্ন হোটেল, গেস্ট হাউস, হস্টেলে ঘুরে ঘুরে কমবয়সিদের খুঁজছে পুলিশ।
দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চেয়ে শনিবার রাস্তায় নামছে ককরোচ জনতা পার্টি। তাদের আরও দাবি, ভোটার তালিকা নিয়ে SIR প্রত্যাহার এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের আইন পরিবর্তন. এই সমস্ত দাবি সামনে রেখে শনিবার ‘যন্তর মন্তর ২.০’-র ডাক দিয়েছে সিজেপি। সমস্ত বাধা উপেক্ষে করে দেশের নানা প্রান্ত থেকে তরুণ প্রজন্ম সিজেপি-র আন্দোলনে যোগ দিতে চলেছে। দিল্লিতে বিপুল জমায়েতের আশঙ্কা করে শুক্রবার রাত থেকেই পদক্ষেপ শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। রাশ টানা হয়েছে মেট্রো ও ট্রেন যাত্রায়। প্রথমে বলা হয়েছিল, দিল্লির ৫৭টি মেট্রো স্টেশনে যাতায়াত নিষিদ্ধ থাকবে শুক্রবার রাত ৯টা থেকে শনিবার সারা দিন। পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আংশিক শিথিলতা দেখায় প্রশাসন। রাতে দিল্লি মেট্রো রেল জানায়, ৫৭টির পরিবর্তে ৪৫টি স্টেশন বন্ধ রাখা হবে শনিবার দিনভর। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করেছেন আপ সাংসদ সঞ্জয় সিংহ। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্র বাঁচাতে তিনিও সামিল হবেন যন্তর মন্তরে।
জনপথ-কর্তব্যপথ ক্রসিংয়ের চার কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে ইন্টারনেট পরিষেবা শুক্রবার রাত থেকে বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্র। দিল্লি ট্রাফিক পুলিশের তরফেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, শনিবার সকাল ৬টা থেকে প্রয়োজনমতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ করা হতে পারে। রাস্তায় থাকছে ১৫ হাজারের বেশি দিল্লি পুলিশ। সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর অন্তত ২৬ হাজার জওয়ান। জানা গেছে, নয়াদিল্লিকে ২০টি জ়োনে ভাগ করে প্রত্যেক জ়োনের দায়িত্বে রয়েছেন ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার এক জন আধিকারিক। আন্দোলনকারীদের মিছিল আসতে পারে, এমন ৩৭টি জায়গা চিহ্নিত করে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীরাও এলাকা ঘিরে রেখেছেন রাত থেকে। রয়েছেন অনেক মহিলা পুলিশকর্মী ও জওয়ান। হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশ থেকে পাঁচ হাজার নিরাপত্তাকর্মীকেও মোতায়েন করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দিল্লি রওনা হওয়ার আগে ককরোচ প্রধান অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, যে কোনো পরিস্থিতির জন্য তাঁরা প্রস্তুত। তাঁদের আন্দোলন গণতন্ত্র রক্ষার লক্ষ্যে। বার্তা দিয়েছেন, আইসা নেত্রী নেহা বোরাও। তিনি জানিয়েছেন, তাঁদের আন্দোলন রুখতে কেন্দ্র যে ভাবে তৎপর হয়েছে তাতে পরাধীন দেশের ছবি ফুটে ওঠে। তবু এই আন্দোলনের কন্ঠ রোধ করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নেহা।
এদিকে, ট্রেন পরিষেবাতেও রাশ টানা হয়েছে। শনিবার ভোর ৪টে থেকে দুপুর ২টোর মধ্যে দিল্লিমুখী সমস্ত মেল এবং এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল। সূত্রের খবর, পুলিশ দিল্লির হোটেল, গেস্ট হাউস, হস্টেল এবং পেয়িং গেস্ট পরিষেবাগুলিতে গিয়েও খোঁজ নিচ্ছে। যন্তর মন্তরের আশপাশে শুক্রবার রাত থেকে শুরু হয়ে গিয়েছে পুলিশের মাইকিং। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে বিস্তীর্ণ অংশে। সেখানে বড় জমায়েত এবং অন্যান্য কার্যকলাপ যে নিষিদ্ধ, লাউডস্পিকারের মাধ্যমে বার বার মনে করিয়ে দিচ্ছে পুলিশ। যদিও, এই আইনি বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের একাংশ। তাঁরা ককরোচের এই আন্দোলনকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।

অন্য দিকে, সিজেপি এবং অন্য আন্দোলনকারী সংগঠনের নেতৃত্ব শান্তিপূর্ণ জমায়েতের ডাক দিয়েছেন। সিজেপি-র কনভেনর অভিজিৎ দীপকে মুম্বই থেকে রাতে জানিয়েছেন, সকালেই তিনি দিল্লি পৌঁছোবেন এবং তখন তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে। কিন্তু তাতে যেন আন্দোলন থেমে না যায়, সেই অনুরোধ করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ভাবে আন্দোলনের বার্তাও দেওয়া হয়েছে।