শীতের বাগানকে রঙিন করে তুলতে পিটুনিয়ার জুড়ি নেই। নানা রঙের বড় ও আকর্ষণীয় ফুলের জন্য পিটুনিয়া অনেকেরই পছন্দের ফুলগাছ। একটু যত্ন নিলেই বীজ থেকে সহজেই পিটুনিয়ার চারা তৈরি করা যায় এবং সঠিক পরিচর্যায় গাছ ভরে উঠতে পারে অসংখ্য ফুলে।
বীজ বপনের সঠিক সময়:
পিটুনিয়ার বীজ বোনার উপযুক্ত সময় সাধারণত বর্ষার শেষ থেকে শরতের শুরু, যাতে শীতের মরশুমে গাছে প্রচুর ফুল আসে। খুব ছোট ও সূক্ষ্ম বীজ হওয়ায় বীজ মাটির অনেক গভীরে পুঁতে দেওয়া যাবে না।
বীজ থেকে চারা তৈরি:
চারা তৈরির জন্য ঝুরঝুরে ও জল নিষ্কাশনযুক্ত মাটি ব্যবহার করুন। কোকোপিট, ভার্মিকুলাইট ও সামান্য কম্পোস্ট মিশিয়ে হালকা মিডিয়া তৈরি করা যায়। মাটির উপর বীজ ছড়িয়ে দিয়ে হালকা চাপ দিন এবং স্প্রে করে জল দিন। পাত্রটি এমন জায়গায় রাখুন যেখানে উজ্জ্বল আলো আসে, তবে শুরুতে তীব্র রোদ এড়িয়ে চলুন। মাটি শুকিয়ে গেলে স্প্রে করে অল্প জল দিতে হবে। সাধারণত অনুকূল পরিবেশে ৭–১৫ দিনের মধ্যে চারা গজাতে শুরু করে।
চারার পরিচর্যা:
চারা একটু বড় হলে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা করুন। অতিরিক্ত জল দিলে চারার গোড়া পচে যেতে পারে, তাই মাটি সবসময় কাদামাটির মতো ভেজা রাখা যাবে না। চারায় কয়েক জোড়া সত্যিকারের পাতা এলে সাবধানে আলাদা টবে রোপণ করা যায়।
প্রচুর ফুল পাওয়ার কৌশল:
পিটুনিয়া ভালো ফুল দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত রোদ পছন্দ করে। প্রতিদিন প্রায় ৪–৬ ঘণ্টা সকালের নরম রোদ পেলে গাছ ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। টবের মাটি হতে হবে উর্বর কিন্তু জল জমে থাকে এমন নয়। গাছ বাড়ার সময় অল্প পরিমাণে সুষম সার এবং ফুলের সময় ফসফরাস ও পটাশসমৃদ্ধ সার নিয়ম মেনে ব্যবহার করা যেতে পারে।
গাছের শুকিয়ে যাওয়া ফুল নিয়মিত তুলে দিলে নতুন কুঁড়ি আসতে উৎসাহ পায়। গাছ বেশি লম্বা ও পাতলা হয়ে গেলে ডগা সামান্য ছেঁটে দিলে নতুন শাখা বের হয় এবং গাছ ঝোপালো হয়। তবে অতিরিক্ত সার বা অতিরিক্ত জল—দুটিই গাছের ক্ষতি করতে পারে।
সঠিক সময়ে বীজ বপন, পর্যাপ্ত আলো, ঝুরঝুরে মাটি, নিয়ন্ত্রিত জল ও নিয়মিত পরিচর্যা—এই কয়েকটি বিষয় মেনে চললেই বাড়ির টব বা বাগানে পিটুনিয়া গাছ সুন্দরভাবে বেড়ে উঠে দীর্ঘ সময় ধরে রঙিন ফুল দিতে পারে।