ওঙ্কার ডেস্ক: গত বছর প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে যুব সমাজের অভ্যুর্থানের জেরে নিজের প্রধানমন্ত্রীর আসন ছেড়ে দেশ ছাড়তে হয়েছিল সেখ হাসিনাকে। ইউনূস প্রশাসন দাবি করেছিল হাসিনা সরকারি ভাবে ইস্তফা দিয়েই দেশ ছেড়ে ভারতে গেছেন। কিন্তু হাসিনা বারবার বলে এসছেন তিনি পদত্যাগ করেননি। তাঁকে জোর করেই দেশ থেকে তাড়ানো হয়েছিল। এবিষয়ে সুপ্রিম কোর্টও যথাযথ প্রমান পায়নি।
গত বছর সংরক্ষন সংক্রান্ত বিষয়ে উত্তাল ছিল বাংলাদেশ। দেশের ছাত্র সমাজ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছিল মুক্তিযোদ্ধা রিশার্ভেশন কোটা নিয়ে। ব্যাপাক অস্থিরতা তৈরি হলে খুলাখুলি গুলি চালানোর আদেশ দেই তৎকালীন দেশের শীর্ষ ক্ষমতায় থাকা সেখ হাসিনা। হামলা চালানো হয় আন্দোলনকারীদের উপর। নিরস্ত্র ছাত্রদের লক্ষ্য করে চলে গুলি বর্ষন। প্রাণ হারান অনেক বিপ্লবী। পরিস্থিতি চরম অবনতি ঘটলে নিজের পদ থেকে সরতে বাধ্য কর হয় হাসিনাকে। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট পদত্যাগ করে ভারতে চলে আসেন তিনি।
২০২৪ সালের ৫ অগস্ট ঘটে যাওয়া গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উদ্যাপন করতে উৎসবের আবহে মেতে উঠেছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শুরু হয়েছে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পদযাত্রা এবং আলোচনাসভা। দিনটি ঘিরে উচ্ছ্বাস ও উত্তেজনা স্পষ্ট প্রশাসনিক স্তরেও। বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে জনসমাবেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। সেই ভাষণেই তিনি পাঠ করবেন জুলাই ঘোষণাপত্র, যা ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনের মূল দলিল হিসেবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এই ঘোষণার সঙ্গে প্রকাশ করা হবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’, যাতে দেশজুড়ে বৈষম্য হ্রাস, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিক অধিকার সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। খসড়া পাঠানো হয়েছে দেশের সব রাজনৈতিক দলের কাছে। ঐকমত্য কমিশনের অধীনে তৈরি এই দলিল অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলিকে আগামী দু’বছরের মধ্যে ঘোষিত অঙ্গীকারগুলি বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এই প্রস্তাবনা শুধুই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয় বরং এটি একটি ঐতিহাসিক পরিক্রমা, যা মুক্তিযুদ্ধের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম গণ-জাগরণ হিসেবে স্বীকৃতির দাবি রাখে।
অন্যদিকে ক্ষমতা হারানোর এক বছর পর ফের দাবি জানালেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর কথায়, “আমি এখনও দেশের বৈধ প্রধানমন্ত্রী। আমি পদত্যাগ করিনি, আমাকে জোর করে সরানো হয়েছে।” মঙ্গলবার রাতে দলের ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন হাসিনা। আওয়ামী লিগ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ৫ অগস্ট দিনটিকে ‘গণতন্ত্র ও ছাত্র-জনতা-পুলিশ হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। ১৯৭৫ সালের ১৫ অগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনায় অগস্ট মাসটিকে এতদিন ‘শোকের মাস’ হিসেবে পালন করত দলটি। কিন্তু ইউনুস সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সেই প্রথা বাতিল হয়েছে।
সরকারিভাবে কিছু ঘোষণা না করা হলেও সূত্রের খবর, বিএনপিসহ একাধিক রাজনৈতিক দল ‘জুলাই বিপ্লব’ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার বিরোধিতা করছে। বিশেষ করে বিএনপির একাংশ মনে করে, এই সিদ্ধান্ত একতরফা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ইউনুস সরকারের এই সংবিধান সংশোধন কার্যত আওয়ামী লিগকে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ করার প্রথম ধাপ হতে পারে। খসড়া প্রস্তাবে যে ভাবে আওয়ামী লিগ জমানার কালিমালিপ্ত অধ্যায়কে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে, তা নজিরবিহীন।
