ওঙ্কার ডেস্ক : তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ফের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থান ষ্পষ্ট করে দিলেন প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আন্তর্জাতিক মঞ্চে পহেলগাঁও হামলার তীব্র নিন্দা করেন তিনি। এসসিও গোষ্টীর বাকি দেশ গুলিকে সন্ত্রাসবাদ এবং আতঙ্কবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। উল্লেখ্য মোদীর ভাষণের সময় সেই সভায় সশরীরে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শারিফও।
সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন-এর ২০২৫ সালের শীর্ষ সম্মেলন হয় চিনের তিয়ানজিন শহরে। ২০ টি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন এই সভায়। একই সঙ্গে ওই সভায় ছিলেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মইজ্জু, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শারিফ, রাশিয়ার ভ্লাদামির পুতিন সহ আরও অনেক শীর্ষ নেতারা। সেই সভায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সারা বিশ্বকে এক হওয়ার ডাক দেন। বলেছেন, “কোনো দেশ যদি সন্ত্রাস খোলাখুলি সমর্থন করে, তাকে তো মুখ বুজে মেনে নেওয়া যায় না”। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে সরাসরি পাকিস্তানের নাম না করলেও তাঁর নিশানা যে পাকিস্তান তা অস্পষ্ট থাকেনি।
প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন সাম্প্রতিক পহেলগাঁওর হামলার প্রসঙ্গ। তাঁর কথায়, এই হামলা শুধু ভারতের উপর আঘাত নয়, বরং গোটা বিশ্বের মানবতাবাদী শক্তিগুলির প্রতি এক খোলামেলা চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, “আমাদের সন্তানদের হারাতে হয়েছে। বহু পরিবার ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। এই যন্ত্রণা ভারত একদিন বা একবছর নয়, গত চার দশক ধরে বয়ে বেড়াচ্ছে।”
উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরে পহেলগাঁওয়ে ভারতীয় পর্যটকদের উপর হামলা চালায় সন্ত্রাসবাদীরা। ২৬ জন প্রাণ হারান ওই হামলায়। ভারত বরাবর এই হামলার পিছনে পাকিস্তানের পৃষ্টপোষকতার কথা বলে এসেছে। পহেলগাঁও হামলার জবাব হিসাবে ভারতীয় সেনা ‘অপারেশন সিঁন্দুর’ অভিযান চালায়। যে হামলায় পাকিস্তানের মদতপুষ্ট ৯ টি জঙ্গিঘাঁটি ধূলিসাৎ করে দেয় ভারতীয় সেনা। আর এরপরই পাকিস্তানও ভারতের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পরে। নিজের দেশের তৎকালীন সামরিক অবস্থা ও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির কথা মাথায় রেখে দিল্লির সঙ্গে কথোপোকথনে যাওয়ার কথা বলে ইসলামাবাদ। চারদিন যুদ্ধ চলার পর ১০ মে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় দুই দেশ।
এদিন এসসিও সভায় মোদীর বার্তায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে, সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে ভারতের অসন্তোষ। সন্ত্রাসবাদকে অর্থ দিয়ে কিংবা অন্যভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করে জানান, “আল কায়েদা ও তার সহযোগী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ভারত সরাসরি লড়েছে। আমরা নেতৃত্বের জায়গায় দাঁড়িয়ে সন্ত্রাসবাদকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেছি।”
এ দিন সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও। সম্মেলন শুরুর আগে তাঁদের সঙ্গেও পৃথক বৈঠকে বসেন মোদী। পরে মূল অধিবেশনে দাঁড়িয়ে তিনি এসসিও-কে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, জঙ্গিবাদ এবং চরমপন্থা কেবল ভারতের জন্য নয়, গোটা বিশ্বকেই অশান্ত করে তুলছে। তাই এই মঞ্চ থেকে সকল দেশের প্রতি আহ্বান, “নিরাপত্তা প্রত্যেক সমাজ ও দেশের মৌলিক অধিকার। এই চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে একসঙ্গে দাঁড়াতেই হবে।” সম্মেলনে মোদীর এই কড়া অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যেমন তাৎপর্যপূর্ণ, তেমনই পাকিস্তানকে উদ্দেশ্য করে তাঁর বার্তা নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
