ওঙ্কার ডেস্ক: সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর শীর্ষ সম্মেলনের জন্য সদস্য দেশগুলির রাষ্ট্রনেতারা বৈঠকে বসতে চলেছেন। তবে বহুপাক্ষিক বৈঠকের আড়ালেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দুটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। আগামী ৩১ আগস্ট চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ১ সেপ্টেম্বর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে বসতে চলেছেন তিনি। আর এই নিয়েই আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় আমদানির উপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করেছেন। এর ফলে ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লি সম্পর্ক মারাত্মকভাবে অবনতি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এতটাই টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে যে, এক সময়ের ‘বন্ধু’ ট্রাম্পের ফোন ধরতেও অনিচ্ছুক মোদী। আমেরিকান বাজার কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারত এখন বিকল্প বাজারের সন্ধান করছে।
এই প্রেক্ষাপটে ভারতীয় পণ্যের জন্য নিজেদের বাজার খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া ও চিন। বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় ভারতের জন্য এই দুই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এর গুরুত্ব শুধু অর্থনীতিতেই সীমাবদ্ধ নয়। আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্য বদলে দেওয়ার সম্ভাবনাও এই আলোচনায় লুকিয়ে রয়েছে।
রাশিয়া ইতিমধ্যেই ভারত-চিন-রাশিয়া একটি ত্রিপাক্ষিক অক্ষ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। যদিও নয়াদিল্লি-বেজিং সম্পর্ক অতীতের সংঘাত থেকে পুরোপুরি মুক্ত হয়নি, তবুও সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্কের রসায়ন অনেকটাই উন্নত হয়েছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর যে টানাপোড়েন চলছিল, ধারাবাহিক সামরিক ও কূটনৈতিক আলোচনার ফলে দুই পক্ষই ধীরে ধীরে সেনা প্রত্যাহার করেছে। দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে যোগাযোগ ফের সক্রিয় হয়েছে। সব দিক থেকেই বরফ গলার ইঙ্গিত স্পষ্ট। আর এই আসন্ন বৈঠকগুলি আমেরিকার ঠিক কতটা মাথাব্যথার কারন হতে পারে সেনিয়ে ভাবাচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলকে।
ফলে, আসন্ন বৈঠকগুলি শুধু বাণিজ্যিক সুযোগ বাড়ানোর জন্য নয়, বরং ভূ-রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ গঠনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে। আন্তর্জাতিক কূটনীতির নতুন সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, তা অনেকটাই নির্ভর করবে এই বৈঠকের ফলাফলের উপর। পাশাপাশি এই বৈঠক নিয়ে ট্রাম্প শিবির কিভাবে প্রতিক্রীয়া করে সেদিকেও নজর।
