ওঙ্কার ডেস্ক: কেন্দ্র সরকারের তরফে গ্রামীণ কর্মসংস্থান সংক্রান্ত একটি নতুন বিল আনার প্রস্তাব ঘিরে সংসদ ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন বা মনরেগা-র নাম বদলে নতুন কাঠামো চালুর উদ্যোগকে কেন্দ্র করে এই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। সরকারের প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত মনরেগা প্রকল্পের পরিবর্তে একটি নতুন নাম ও রূপে গ্রামীণ কর্মসংস্থান কর্মসূচি চালু করার কথা বলা হয়েছে, যা নিয়ে বিরোধী দলগুলির পাশাপাশি বিশিষ্ট নেতারাও আপত্তি তুলেছেন।
কংগ্রেস নেতা শশী থারুর এই নাম পরিবর্তনের উদ্যোগকে নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। এদিন সংসদে শীতকালীন অধিবেশনে থারুর বলেন, “মহাত্মা গান্ধীর নাম দেশের এক ঐতিহাসিক ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং সেই নাম সরিয়ে দেওয়া শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি আদর্শিক বার্তাও বহন করে”। তিনি বলেছেন, “গান্ধীর ভাবনা, গ্রাম স্বরাজ ও আত্মনির্ভরতার দর্শন এই প্রকল্পের মূল ভিত্তি ছিল। সেই ঐতিহ্যকে উপেক্ষা করে নতুন নামকরণ করা দেশের ইতিহাস ও মূল্যবোধের প্রতি অসম্মান”। এই কথা বলতে গিয়ে তিনি তাঁর ছোট বেলার একটি গানের লাইন তুলে বলেন, “রাম কা নাম বদনাম মাত করো”, যার অর্থ “রামের নাম বদনাম করো না”। কংগ্রেস নেতার এই ‘রাম নাম’ মন্তব্যে শাসক দলকে রাজনৈতিক টিপ্পনী কেটেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
এই ইস্যুতে সংসদের ভেতরেও উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলি সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পূর্ববর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলির নাম বদলে দেওয়া হচ্ছে। বিরোধীদের দাবি, ‘মনরেগা’ শুধুমাত্র একটি কর্মসংস্থান প্রকল্প নয়, বরং গ্রামীণ ভারতের অর্থনৈতিক সুরক্ষার প্রতীক। লক্ষ লক্ষ দরিদ্র পরিবার এই প্রকল্পের মাধ্যমে ন্যূনতম আয়ের নিশ্চয়তা পেয়েছে, যা মহামারির সময় আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।
অন্যদিকে, সরকার দাবি করেছে যে নতুন বিলের মাধ্যমে গ্রামীণ কর্মসংস্থান ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করা হবে। কাজের দিনের সংখ্যা বৃদ্ধি, প্রকল্পের পরিসর সম্প্রসারণ এবং উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে কর্মসংস্থানকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে সরকারের বক্তব্য। তবে নাম পরিবর্তন নিয়ে সরাসরি সরকারের তরফে বিরোধীদের আপত্তির সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই প্রস্তাবের বিরোধিতায় সংসদের বাইরে প্রতিবাদ কর্মসূচিও দেখা গেছে। একাধিক বিরোধী নেতা মনে করছেন, দেশের ইতিহাসে মহাত্মা গান্ধীর অবদান সর্বজনস্বীকৃত এবং তাঁর নাম মুছে ফেলার যে কোনও প্রচেষ্টা সাধারণ মানুষের আবেগে আঘাত করে। শশী থারুরের মন্তব্য সেই আবেগকেই আরও প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। পাশাপাশি শশী থারুর কেন্দ্রের এই প্রকল্পের বরাদ্দ অর্থের অনুপাত নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এর আগে এই প্রকল্পের জন্য কেন্দ্র সরকার ৯০% এবং রাজ্য সরকার ১০% অর্থ প্রদান করত। কিন্তু কেন্দ্রের প্রাস্তাবিত নয়া প্রকল্পে কেন্দ্র দেবে ৬০% এবং রাজ্য সরকারকে বাকি ৪০% অর্থ দিতে হবে।
