ওঙ্কার ডেস্ক: চার দশকের প্রতীক্ষা অবসান করে রাকেশ শর্মার পর এই প্রথম, ফের এক ভারতীয় পা রাখতে চলেছেন মহাকাশে। নাম শুভাংশু শুক্ল, উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের বায়ুসেনা অফিসার, যিনি এবার ভারতের গর্ব হয়ে উঠবেন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পাড়ি দিয়ে। বুধবার ভারতীয় সময় ঠিক ১২টা ১ মিনিটে, আমেরিকার ফ্লরিডায় নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চপ্যাড ৩৯-এ থেকে মহাকাশের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে ‘ড্রাগন’ মহাকাশযান। তার পাইলট আসনে থাকবেন ৩৯ বছর বয়সি শুভাংশু, যিনি এই অভিযানে মহাকাশযান পরিচালনার গুরুদায়িত্ব সামলাবেন।
এই ঐতিহাসিক অভিযানটি অ্যাক্সিয়ম-৪’ (Axiom-4) স্পেসএক্স এবং অ্যাক্সিয়ম স্পেস ইনকর্পোরেশনের যৌথ প্রকল্প। অভিযানে চার আন্তর্জাতিক সদস্যের দল থাকছেন, যার মধ্যে ভারতের প্রতিনিধি শুভাংশু একমাত্র এশিয়াবাসিও। নেতৃত্বে রয়েছেন নাসার প্রাক্তন নভশ্চর এবং অ্যাক্সিয়ম স্পেসের ডিরেক্টর রেগি হুইটসন। আরও দুই সদস্য হলেন পোল্যান্ডের স্লায়োস উজ়নানস্কি-উইসনিউস্কি এবং হাঙ্গেরির টিবর কাপু।
শুভাংশু শুক্ল ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন, এবং এর আগে তিনি এএন-৩২, জাগুয়ার, হক, মিগ-২১, সু-৩০ -এর মতো একাধিক যুদ্ধবিমান সফলভাবে পরিচালনা করেছেন। এই অভিজ্ঞতার জন্যই তাঁকে প্রধান মহাকাশচারী হিসেবে বেছে নেওয়া হয় ‘অ্যাক্সিয়ম-৪’ অভিযানে। ইসরো-র তরফে প্রাথমিক ভাবে দু’জন মনোনীত হয়েছিলেন, শুভাংশু শুক্ল এবং প্রশান্ত বালাকৃষ্ণন নায়ার। প্রশান্ত ছিলেন বিকল্প সদস্য হিসাবে। দু’জনেই গত বছরের আগস্ট থেকে প্রশিক্ষণ শুরু করেন স্পেসএক্স এবং অ্যাক্সিয়মের তত্ত্বাবধানে।
প্রথমে ২০২৫ সালের ২৯ মে উড়ান হওয়ার কথা থাকলেও, আবহাওয়া ও যান্ত্রিক সমস্যার কারণে মিশন একাধিকবার পিছিয়ে যায়। অবশেষে ২৫ জুন, ২০২৫, দিনটি ইতিহাসে লেখা হতে চলেছে ভারতীয় মহাকাশচর্চার এক নতুন অধ্যায় হিসেবে। এই মিশনের মূল লক্ষ্য আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছে ১৪ দিন ধরে অন্তত ৬০টি বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও পরীক্ষা চালানো। ভারতীয় প্রযুক্তি, বায়ো-মেডিক্যাল সায়েন্স এবং শূন্য মাধ্যাকর্ষণে মানবদেহের প্রতিক্রিয়া সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা এই অভিযানে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এদিকে গোটা দেশের নজর এখন ফ্লরিডার আকাশের দিকে। নাসার সরাসরি সম্প্রচার ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রবল আগ্রহ। শুধু বিজ্ঞান মহল নয়, শুভাংশুর সহপাঠী, সহকর্মী, পরিবার ও তার স্কুলের শিক্ষকরাও আবেগে ভাসছেন। ১৪০ কোটি ভারতবাসীর প্রার্থনা আজ, সফল হোক শুভাংশুর যাত্রা, সফল হোক ভারতের দ্বিতীয় মহাকাশ অধ্যায়। এই অভিযানে কেবল একটি মানুষ নয়, এক জাতির স্বপ্ন, সম্ভাবনা আর আত্মবিশ্বাসও রওনা দেবে মহাকাশের উদ্দেশে।
