ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা, ও অ্যাক্সিয়ম-৪ মিশনের বাকি তিন মহাকাশচারীর সঙ্গে সোমবার স্পেসএক্স ড্রাগন মহাকাশযানে প্রবেশ করেছেন পৃথিবীতে ফেরার উদ্দেশ্যে। প্রায় ২০ দিন পর আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে এই চার মহাকাশচারীর মিশন শেষ হবে ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলের প্রশান্ত মহাসাগরে। ‘গ্রেস’ নামের স্পেসএক্স ড্রাগন মহাকাশযানের হ্যাচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ইন্ডিকেটরও সঠিকভাবে স্থির হয়েছে এবং এরপরই আইএসএস থেকে শুভ্রাংশু দের দলের ফেরার ক্যাপ্সুল যান পৃথিবী পৃষ্ঠে ফেরার জন্য একদম তৈরি। প্রথম ভারতীয় হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পা রেখে শুভাংশু শুক্লা ইতিহাস গড়েছেন এই মিশনে । শুধু তাই নয়, এই মিশনে স্পেসএক্স ড্রাগন মহাকাশযানটি চালনার দায়িত্বও তাঁর কাঁধে।
অ্যাক্সিয়ম স্পেস জানিয়েছে, হ্যাচ বন্ধের পর ডিপার্চার অপারেশন শুরু হয়েছে। প্রায় ২২.৫ ঘণ্টার সফরের পর পৃথিবীর বুকে ফিরবেন শুভাংশু এবং তাঁর সঙ্গীরা। মহাকাশ স্টেশনে কাটানো দিনগুলিতে তাঁদের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব এবং প্রযুক্তিগত সাফল্য ইতিমধ্যেই নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে।
রবিবার আন্তর্যাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে বিদায় বেলার ভাষণে শুভাংশু শুক্লা স্মরণ করেছেন দেশের প্রথম মহাকাশচারী রাকেশ শর্মার ঐতিহাসিক কথাগুলো। তিনি তাঁর বিদায়কালীন বক্তৃতার বলেছেন, “আজকা ভারত আবি ভি সারে জাহাঁ সে আচ্ছা দিখতা হ্যায়” (আজকের ভারত এখনও পৃথিবীর সব থেকে সেরা দেখায়)। তবে নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন আর আত্মবিশ্বাসের সাথে তাঁর বক্তব্যে যুক্ত হয় আধুনিক ভারতের স্পষ্ট ছাপ। তিনি বলেন, “মহাকাশ থেকে আজকের ভারত উচ্চাকাঙ্ক্ষী দেখায়, আজকের ভারত নির্ভীক দেখায়, আজকের ভারত আত্মবিশ্বাসী দেখায়”।
বিদায় বেলার বার্তায় শুভাংশু শুক্লা ইসরো, নাসা, অ্যাক্সিয়ম স্পেস ও স্পেসএক্স-এর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বিশ্বের নানা প্রান্তের দক্ষ পেশাদারদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে তিনি অসাধারণ বলে বর্ণনা করেন। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এই অভিযান শুধু প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়, নতুন প্রজন্মের কাছে মহাকাশ বিজ্ঞানের অনুপ্রেরণাও। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল ভারতীয় সময় অনুযায়ী বিকেল ৩-টের মধ্যেই ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে ড্রাগন ক্যাপ্সুল অবতরণ করবে। এখন শুধু পৃথিবীর বুকে তাঁদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় আছে সারা বিশ্ববাসী।
