ওঙ্কার ডেস্ক: ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা ঘিরে ক্রমশ চড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিএলওদের সতর্ক করে দিয়েছেন, কারও নাম যেন অনিচ্ছাকৃতভাবে বাদ না পড়ে, অন্যদিকে মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ জানালেন “নাম বাদ যাবেই, কেউ আটকাতে পারবে না”।
শুভেন্দুর অভিযোগ, রাজ্যের ভোটার তালিকায় একাধিক ভুয়ো ও অবৈধ নাম ঢুকিয়ে দিয়েছে তৃণমূল, যার পেছনে রয়েছে তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক। তাঁর দাবি, ‘‘রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, মৃত ভোটার, একাধিক জায়গার ভোটার তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তি, এবং তৃণমূল-আইপ্যাক যৌথ উদ্যোগে তৈরি ভুয়ো ভোটার এদের নাম থাকবেই না। এসব কাটতেই হবে।’’ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলতে কাদের বোঝাতে চেয়েছেন, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন শুভেন্দু। বলেন, ‘‘যাঁরা ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে প্রতিবেশী দেশ থেকে এসেছেন হিন্দু, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান তাঁরা অনুপ্রবেশকারী নন, তাঁরা সিএএ-র মাধ্যমে বৈধ নাগরিকত্ব পাবেন।’’
২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে রাজ্যের ৮০টি বিধানসভা কেন্দ্রে ৩০ শতাংশ ভোট বৃদ্ধি হয়েছে বলে দাবি শুভেন্দুর। তাঁর মতে, এই বৃদ্ধির পেছনেই রয়েছে ভুয়ো ভোটারদের হাত। আর তৃণমূল সেই ভুয়ো ভোটেই জেতে এমনটাই অভিযোগ করেন তিনি। শুধু ভোটার তালিকা নয়, বিএলও ও ইআরও নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু। বলেন, ‘‘এগরায় ৮৪ জন আশা ও আইসিডিএস কর্মীকে বিএলও হিসেবে নিয়োগ করেছেন মহকুমাশাসক। এটা বেআইনি। যেখানে স্থায়ী সরকারি কর্মী আছেন, সেখানে অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ করা যায় না। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে জানিয়েছি”। পাশাপাশি অভিযোগ তোলেন, রাজ্যে মহকুমা শাসক ছাড়া অন্য ব্যক্তিকে ইআরও পদে নিয়োগ করা হচ্ছে। সাবেক মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আরিজ আফতাবকে নিশানা করে বলেন, ‘‘ভাবছে এখনও সেই জমানা চলছে, সব ম্যানেজ হয়ে যাবে। এবার আর হবে না।’’
এছাড়া, দিল্লিতে এক বাঙালি মহিলা ও শিশুর উপর ‘পুলিশি অত্যাচার’ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পোস্ট করা ভিডিয়ো নিয়েও তীব্র আক্রমণ শানান শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী মিথ্যে খবর ছড়াচ্ছেন। তিনি গুজব রটানোয় আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেতে পারেন”। মমতার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবিও তোলেন শুভেন্দু। জানান, দিল্লি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করতে তিনি নিজেই উদ্যোগী হয়েছেন। তাঁর ভাই ও কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারীকে ফোনে অনুরোধ করেছেন, সংসদ অধিবেশনের বিরতির সময় থানায় গিয়ে মমতার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে।
একদিকে মুখ্যমন্ত্রী ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ না পড়ার বার্তা দিচ্ছেন, অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা সেই বার্তাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে নির্বাচনী কারচুপির বিস্ফোরক অভিযোগ তুলছেন। ভোট যত এগোচ্ছে, ততই রাজনীতির মাঠে আঁচ বাড়ছে এবং এবার তার কেন্দ্রবিন্দুতে ‘নিবিড় সমীক্ষা’ ও ‘ভুয়ো নাম’।
